বৃহত্তম বটগাছটির অবস্থান ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে। মালিয়াট ইউনিয়নের সুইতলা মল্লিকপুরে বর্তমানে ১১ একর জমি-জুড়ে বিদ্যমান বটগাছটি। এর উচ্চতা আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট। খণ্ড খণ্ড আকারে মোট ৪৫টি বটগাছে রূপ নিয়ে আছে বটগাছটি।

.png)
৩০০ বছের পুরনো এই গাছের উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা না গেলেও লোকমুখে কথিত আছে, একটি কুয়ার পাড়ে ছিল এই গাছের মূল অংশ। তখন জনবসতি ছিল খুবই কম। রাস্তার পাশে এই গাছটি ছিল ডালপালা-পাতায় পরিপূর্ণ। গাছের নিচে রোদ-বৃষ্টি পড়তো না। মাঘ মাসের শীতের রাতেও গাছের তলায় গরম থাকতো। গরমকালে গাছের নিচে ঠান্ডা লাগতো। পথিকেরা গাছের তলায় শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিতেন। তবে মূল গাছ এখন আর নেই। বর্তমানে প্রায় দুই-তিনশ ‘ব’ নেমে প্রায় ১১ একর জমি দখল করে নিয়েছে এ বৃহত্তম গাছটি। গাছটি কেন্দ্র করে পাশেই বাংলা ১৩৬০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মল্লিকপুরের বাজার।

যেভাবে যাবেন
রাজধানীর ঢাকার গাবতলী থেকে রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা, জে লাইন, সোনারতরী, সোনালী, দর্শনা ডিলাক্স ইত্যাদি পরিবহনের এসি বা নন এসি বাসে চড়ে ঝিনাইদহ যাওয়া যায়। তবে চাইলে একই বাসযোগে কালীগঞ্জে যাওয়া যায়। কালীগঞ্জ শহর থেকে বটগাছটির দূরত্ব প্রায় ১০ কিরোমিটার। কালীগঞ্জ শহর থেকে অটোরিকশা কিংবা সিএনজি নিয়ে ঐতিহাসিক বটগাছটি দেখতে যেতে পারেন।

যেখানে থাকবেন
কালীগঞ্জে নলডাঙ্গা রাজবাড়ী রিসোর্টসহ বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে এখানে। এছাড়া ঝিনাইদহ শহরে থাকার জন্য কিছু আবাসিক হোটেলও রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ড্রিম ইন্টারন্যাশনালের এসি বা নন এসি রুমে প্রতি রাতে থাকতে ৭০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। তবে ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেও অন্য হোটেলগুলোতে থাকা যাবে।
যা খাবেন
কালীগঞ্জ হয়ে মল্লিকপুর যাওয়ার পথে ধানসিঁড়ি, সবুজ বাংলা, রূপসী বাংলা, রয় সুইটস, আল্লাহর দানসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও খাবার হোটেল রয়েছে। এছাড়াও ঝিনাইদহ শহরে বেশকিছু নামিদামি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহের ঘোষের মিষ্টি, পায়রা চত্বরের ছানা ও ছানা জিলাপি এই অঞ্চলের বিশেষ খাবার।