রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোছ. আছমা আক্তার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়া গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার মেয়ে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এমএ আফজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
জানা যায়, আছমা আক্তার ২০০৮ সালে নাটোরের আশরাফ উদ্দীন নামে একজনকে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন। বিয়ের দুই বছর পরে তাদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। আছমার স্বামী আশরাফ ২০১৩ সালে রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে আছমা মেয়ে শিউলী আক্তারকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
আছমা ২০১৭ সালে পুনরায় গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকার আবদুল কাদের নামে একজনকে বিয়ে করেন। কাদের বিয়ের পরে প্রায়ই শ্বশুর বাড়িতে আসতেন। কয়েকদিন থেকে আবার চলে যেতেন। মাঝেমধ্যে আছমাও মেয়েকে নিয়ে কাদেরের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে শ্বশুর বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন কাদের। তবে আছমা কাদেরের কাছে আসা-যাওয়া করতেন। হঠাৎ তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা কমিয়ে দেন। আছমা ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভাইয়ের শাশুড়ি তাদের বাড়িতে আসলে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।
এর পরের দিন সকালে আছমা তার ১০ বছর বয়সী শিউলী আক্তারকে স্কুল থেকে ডেকে জোরপূর্বক ইঁদুর মারার একটি ট্যাবলেট খাওয়ান। এ সময় আছমার মা মনোয়ারা বেগম বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইল হেডফোনের তার পেঁচিয়ে মেয়ে শিউলীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় শিউলীর নানা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে মেয়ে আছমাকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে আছমাকে একমাত্র আসামি হিসেবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে রোববার দুপুরে এ রায় দেন।