ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এক ছেলে খুন, মায়ের মামলায় আসামি হলেন আরেক ছেলে

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৯ এপ্রিল ২০২৩
এক ছেলে খুন, মায়ের মামলায় আসামি হলেন আরেক ছেলে
গ্রেফতারকৃতরা

রাতে ছেলের জন্য ঘরে অপেক্ষা করছিলেন মা। রাত ৮টা পেরিয়ে গেলেও ছেলে মালেক মায়ের কাছে ফিরলো না। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে মালেকের খোঁজ করছিলেন মা। বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেও পেলেন না ছেলের সন্ধান। পরদিন সকালে লোকমুখে পেলেন ছেলের খবর। তবে যা শুনলেন তিনি হতবাক হয়ে গেলেন। ছুটে গেলেন ছেলের কাছে। দেখলেন ধানক্ষেত পড়ে আছে ছেলের নিথর দেহ।

পুরো শরীরজুড়ে লেগে আছে কাঁদা। এরপরই এই লাশের নেপথ্যের ঘটনা জানতে নেমে পড়ে পুলিশ। এতেই বের হলো রোমহষর্ক ঘটনা। নির্মমভাবে খুন হয়েছেন মালেক। আর খুনে জড়িত আছেন মালেকের আপন বড় ভাই তারেক।

ঘটনাটি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চেঙ্গা গ্রামের। ১৫ বছরের আব্দুল মালেক চেঙ্গা গ্রামের মৃত হাসমত আলী ওরফে হাসোর ছেলে। দুপচাঁচিয়া সিও অফিস কাঁচা বাজারে একটি মুরগীর দোকানে কর্মচারী ছিল মালেক।

Advertisement

শুক্রবার সকালে ওই উপজেলার চেঙ্গা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দুপচাঁচিয়ার চেঙ্গা গ্রামের মোক্তার হোসেন, একই গ্রামের নিহত মালেকের ভাই তারেক এবং জেলার আদমদীঘি উপজেলার মুড়ইল তালুকদারপাড়া গ্রামের মাহবুব আলম। 

পুলিশ জানায়,  ৫ বছর ধরে মুরগির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন মালেক। প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে যায় মালেক। বাড়ি ফেরে রাত ৮টার দিকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে দোকান থেকে ঘরে ফিরে আসেননি মালেক। ওই রাতে তাকে খুন করা হয়। গ্রেফতার হওয়া তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গ্রেফতার তিনজনের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে দুপচাঁচিয়া থনার পরিদর্শক (তদন্ত)  আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, তারেক, মোক্তার ও মাহবুব তিনজনই মাদকাসক্ত। তারা চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত। বিষয়টি জানতে পেরে মালেক তার ভাই তারেককে অপকর্মে জড়িত হতে নিষেধ করে। এরপরেও তারেক তার সহযোগী মোক্তার ও মাহবুবের সঙ্গে চুরি, ছিনতাই করতেন। এতে মালেক ক্ষিপ্ত হয়ে তারেককে বলে এবার ভালো না হলে পুলিশকে সব জানিয়ে দিবে। এতে তারেক ক্ষিপ্ত হয়ে মালেককে মারধর করেন। এর কয়েকদিন পরেই মালেক তার ভাই তারেককে মারধর করেন।

তিনি আরো বলেন, মারধরের শিকার হওয়ার পর তারেক বিষয়গুলো নিয়ে মোক্তার ও মাহবুবের সঙ্গে আলোচনা করেন। সব শোনার পর মোক্তার ও মাহবুবও ক্ষিপ্ত হন। তারা মালেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে মালেককে দোকান থেকে কৌশলে ধানক্ষেতে ডেকে নেন তারা। সেখানেই মালেককে হত্যা করা হয়। এরপর মালেকের ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ তার কাছে থাকা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান হত্যাকারীরা।

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে প্রথমে থানায় মামলা করেন মালেকের মা তারা বানু। পরে তদন্তে আসামিদের নাম বেরিয়ে আসে। তারেক তার ভাই হত্যায় সরাসরি অংশ নেন। গ্রেফতার তিনজনকে আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্তে জানা যাবে।

বগুড়ার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (আদমদীঘি সার্কেল) মো. নাজরান রউফ বলেন,  মালেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিরলস প্রচেষ্টা এবং ব্যাপক পরিশ্রমের ফলাফল হিসেবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ:  বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!