ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রকৃতি সেজেছে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়ায়

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
প্রকৃতি সেজেছে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়ায়
চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথে প্রান্তরে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গ্রীষ্মের রোদের সবটুকু উত্তাপ গায়ে মেখে নিয়ে ফুটেছে সবুজ পাতার মাঝে এই রক্তিম পুষ্পরাজি। যেন আগুন জ্বলছে। যেদিকে চোখ যায় সবুজের মাঝে শুধু লাল রঙের মূর্ছনা, প্রকৃতির এই সৌন্দর্য চোখে পড়ছে। চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও। ঋতুচক্রের আবর্তনে কৃষ্ণচূড়া তার মোহনীয় সৌন্দর্য নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে প্রকৃতির মাঝে। 

সেইসঙ্গে কৃষ্ণচূড়ার লাল আবির গ্রীষ্মকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা। আমাদের এখানে রয়েছে বারো মাসে ছয়টি ঋতু। প্রতি দুমাস অন্তর ঋতু পরিবর্তন হয়। আর এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে চলতে থাকে রূপের পালাবদল। প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। এই গ্রীষ্মকালে কাঠফাঁটা রোদে কৃষ্ণচূড়ার আবির নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে যেন বর্ণিল রূপে। দেখলেই মনে হয় প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন জ্বলছে। 

কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এ গাছ পত্রপল্লব এবং আগুন লাল ফুলের জন্য বিখ্যাত। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও এ গাছ ছায়া দিতে বিশেষ উপযুক্ত। উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো বড় ৭-৮টি পাপড়িযুক্ত গাঢ় রক্তিম লাল হয়। ফুলের ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে।

Advertisement

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। কুঁড়ি আসার কিছুদিনের মধ্যে পুরো গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে। তবে কৃষ্ণচূড়া গাছ খুব একটা বড় হয় না। এর ডালপালা পাইকোর গাছের মতো অনেক জায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ কৃষ্ণচূড়া গাছ রাস্তার দুই ধারে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশে শোভা পাচ্ছে।

প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙ

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর শহরের তারাগন, রাধানগর, কলেজ রোড, খড়মপুর বাইপাস রেলওয়ে স্কুল সংলগ্ন স্থানে, উপজেলার আজমপুর, কর্ণেল বাজার এলাকাসহ অনেক জায়গায়  রাস্তার দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া শোভা পাচ্ছে। এ যেন এক চমৎকার রূপ, যেন কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে আগুন লেগেছে। কৃষ্ণচুড়া যখন ফুটে এই প্রকৃতির বুকে তখন সব বাঙ্গালীর হৃদয়ে দোলা দেয়। অনেকে দল বেঁধে কৃষ্ণচুড়া ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছে। উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা ভিড় করছেন ফুলের সঙ্গে নিজের একটি মুহূর্তবন্দী করে রাখতে। 

পৌর এলাকার হাসান মিয়া বলেন, এক সময় রাস্তার দুই পাশে অনেক কৃষ্ণচুড়া গাছ ছিল। শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে গাছের নিচে এসে বসতো। তাছাড়া প্রচন্ড গরমে গাছের ছায়ায় বসে লোকজন গল্প করতো। এখন গাছ অনেক কমে গেছে। এরপরও এই গাছের ছায়ায় ক্লান্ত পথচারীরা নিজেকে একটু জিড়িয়ে নেয়। 

প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে এই বিদ্যালয় মাঠে একটি বড় আকৃতির কৃষ্ণচুরা গাছ রয়েছে। গ্রীষ্মের এই খরতাপে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। রক্তিম লালে প্রকৃতিকে ও যেন অনেক অপরূপ দেখায়। 

ঘুরতে আসা গৃহিণী ইয়াসমিন আক্তার জানান, তার বোন ও মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। রাস্তার পাশে কৃষ্ণচুড়া গাছ দেখে লোভ সামলাতে পারেননি। নিরিবিলি পরিবেশ পেয়ে অনেক্ষণ বসে তারা গল্প করেছেন ছবিও তুলেছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!