গরুর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরমে মশা-মাছির ব্যাপক উৎপাত বেড়েছে। যার ফলে ষাঁড়, দুধের গাভি ও বাছুর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত গরুর প্রথমে পা ফুলে যায়। এরপর জ্বর হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে পুরো শরীরে বসন্তের মত ফোসকা পড়ে। যা পরবর্তীতে ঘাঁ’তে পরিণত হয়। এতে করে আক্রান্ত গরুগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না।
স্থানীয় পশু চিকিৎসকরা বলছেন, ৯০-এর দশকের দিকে আফ্রিকায় ‘লামথি স্কিন ডিজিজ’ নামের ভাইরাসজনিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। যেখানে মশা-মাছির কামড় থেকে রোগটি ছড়াতো। সম্প্রতি সময়ে নতুন করে আবারও এ রোগটি দেখা দিয়েছে।
.png)
উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরউমেদ গ্রামের মো. ফিরোজ জানান, মশা-মাছির কামড়ে ৬টি গরুই আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এরমধ্যে একটি গরু মারা গেছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
ওই এলাকার মো. জামাল উদ্দিন নামের আরেক গরুর মালিক জানান, এক বছরের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বড় দুটি গরু মারা গেছে। এই ভাইরাসের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।
প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ অনেক গরুর মালিক ও খামারিদের। উপজেলার তাদের দাবি, অন্তত প্রতি মাসে সরকারি যেসব পশু চিকিৎসক রয়েছেন তারা যেন গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জয়া ধর মুমু বলেন, এটি ভাইরাল ডিজিজ রোগ। যার এখনো কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তবে এর জন্য সার্পোটিভ চিকিৎসা রয়েছে। কোনো পশু এ রোগে আক্রান্ত হলে আপাতত সার্পোটিভ চিকিৎসা নিতে হবে।