ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কালোবাজারিদের দখলে টিকেট কাউন্টার

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৭:০৩, ১২ এপ্রিল ২০২৩
কালোবাজারিদের দখলে টিকেট কাউন্টার
বগুড়ার ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড

ঈদের ছুটিতে ঘরের টানে ছোটে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই সময়গুলোতে বাসের টিকিটের চাহিদাও থাকে বেশি। আর তখনই টিকিটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কালোবাজারে। সে সময় একটি টিকিটই হয়ে যায় সোনার হরিণ! বাড়তি টাকা আদায়ের জন্য সৃষ্টি করা হয় টিকিটের কৃত্রিম সংকট। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ঘরমুখী মানুষেরা।

ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা ও ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাওয়ার টিকিট পেতে যাত্রীদের এক ধরনের যুদ্ধে নামতে হয়। গুণতে হয় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা। শুধু এক-দুইবার নয়, এভাবে বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের টিকিট পেতে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এরপরেও কালোবাজারিদের কবল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

বাসে যাতায়াত করেন এমন অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ঈদের অগ্রিম ও ফিরতি টিকেট বিক্রির সময় হলেই বাস কর্তৃপক্ষের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েন। কাউন্টারে টিকিট কিনতে গেলে বলা হয় নেই। সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ তারা ঠিকই টিকিট বিক্রি করছেন গোপনে অতিরিক্ত টাকায়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করা হয়।

Advertisement

তারা অভিযোগ করেন, বাড়তি টাকা নিয়ে কাউন্টারের ভেতর বা বাইরে থেকে কর্মীদের একাংশ টিকিট বিক্রি করেন। অন্যদিকে, অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পান না। যেকোন মূল্যে একটি টিকিটের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে। আর সেই সময়ই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকায় টিকিট দেওয়ার প্রলোভন দেন কাউন্টারের পরিবহন ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। বাধ্য হয়ে তাদের চাওয়া দামেই টিকিট কেনেন ঘুরমুখী এবং কর্মস্থলগামীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় নামিদামি কোম্পানির বাসগুলোর টিকিটই বেশি কালোবাজারি হয়। বগুড়ায় শাহ ফতেহ আলী, হানিফ, এসআর, একতা, ডিপজল, শ্যামলী পরিবহনসহ সব বাসেরই টিকিট পেতে যাত্রীদের ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। অনেক সময় দ্বিগুণ দামে একটি টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। অনলাইন থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যায় না। কারণ অধিকাংশই টিকিট আগেই কেটে রাখেন বাস কাউন্টারের লোকজন। 

বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব ঢাকায় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কথা হয় তার সঙ্গে। 

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় বাসের টিকিট পেতে এক ধরনের যুদ্ধে নামতে হয়। গতবার বগুড়া থেকে ঢাকা যাওয়ার ৪৫০ টাকার টিকিট ৭০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। তাও কাউন্টারে গেলে সহজে টিকিট মেলে না। বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, এবার বগুড়া-ঢাকা বাসের টিকিটের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৫০ টাকা। এই টিকিট কালোবাজারে গিয়ে দাম আরও বাড়ানো হবে। কয়েকজনকে বলেছি একটা টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ঈদে বাসের টিকিট কালোবাজার থেকেই নিতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাস কাউন্টারের এক কর্মী জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭-১৮ এপ্রিলে থেকে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে বাস মালিকরা সরাসরি জড়িত থাকেন না। এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেন কাউন্টারের লোকজন। টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেন তারা।

তিনি আরও জানান, বাস কাউন্টারে দায়িত্বরতরা আগেই টিকিট কেটে রাখেন। যাত্রীরা যখন টিকিট না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন, তখন তারা অবৈধ ব্যবসায় শুরু করেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় যাত্রীদের হাতে আগেই টিকিট দেওয়া হয় না। বাসে উঠার আগে তাদের হাতে টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ টাকা দিয়ে টিকিট কেনেন।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহ্ মো. আখতারুজ্জামান ডিউক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আগে বাসের টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হতে পারে। তবে এবার আর তা হবে না। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। টিকিট কালোবাজারি করছেন-এমন কাউকে ধরতে পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বলা হয়েছে বাসের টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারি করা যাবে না। আর টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে- এমন অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: টিকিট বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!