মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই রাজশাহী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ।
তিনি জানান, ঘটনাটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর এলাকার। ২০০৪ সালের ১০ জুন লক্ষীনগর এলাকায় ১৩ বছর বয়সী রেবেকা খাতুন নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৯ বছর আগের মামলা এটি। এ ঘটনায় বাঘা থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আকসেদ আলী সিকদার। যদিও মামলার তদন্তের শেষ পর্যায়ে উঠে এসেছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আকসেদ আলী নিজেই ১৩ বছরের সন্তানকে হত্যা করেছিলেন। একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মোল্লা বংশকে ফাঁসানোর জন্য বাদী হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেন। এরপর মোল্লা বংশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
.png)
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ আরো জানান, বাদী আকসেদ আলী সিকদার পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন যে- ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দুই স্ত্রী ভায়েলা খাতুন এবং আফিয়া বেওয়ার সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন প্রায় ৫০ জন দুষ্কৃতকারী তার বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। এ সময় স্ত্রীদের পরামর্শে আকসেদ আলী বাড়ির কিছু দূরে একটা পুকুর গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। দুষ্কৃতকারীরা আকসেদ আলীর বাড়ি থেকে চলে গেলে কিছুক্ষণ পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি দেখতে পান- তার স্ত্রীর হাত রক্তাক্ত এবং ছুরিকাঘাতে তার মেয়ে রেবেকা খাতুনের পেটে থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রেবেকার মাথায় পানি দিতে থাকেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই রেবেকা নিহত হয়।
পরে মেয়েকে হত্যার দায়ে একটি মামলা দায়ের করেন আকসেদ আলী সিকদার। এ মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি প্রথমে বাঘা থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে মামলাটি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তদন্তের জন্য নেয়। তারা তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেয়। আদালতে এ মামলায় ১৮ বছর বিচার কার্যক্রম চলে। আদালত মামলাটির আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে নির্দেশ দেন। এ কারণে ২০২২ সালের ১৬ মে রাজশাহী পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের ভার দেন আদালত।
এরপরে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তকালে পিবিআইয়ের কাছে একটা বড় প্রশ্ন ছিল- একটি গ্রামে রাত সাড়ে ১১টায় ৫০ জন লোক এসে একটা ১৩ বছরের মেয়েকে মেরে চলে গেল। আর বাড়ির টিনে মাত্র দুইটি কোপের চিহ্ন ছিল। এটা কতটা বাস্তব? এই প্রশ্নকে সামনে রেখে মামলাটির তদন্ত শুরু করেন পিবিআই রাজশাহীর এসআই খায়রুল ইসলাম।
তদন্তের একপর্যায়ে বাদীর স্ত্রী ভায়েলা খাতুন ও নিহত রেবেকা খাতুনের মা আফিয়া বেওয়া আদলতে স্বীকার করেন আসামিদের ফাঁসানোর জন্য তাদের স্বামী আকসেদ আলী সন্তানকে হত্যা করেছেন। হত্যার সময় বাধা দিতে গেলে আকসেদ আলী দুই স্ত্রীর হাতের বিভিন্ন জায়গায় কোপ দেন। হত্যার কারণ ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো। নিজেদের মধ্যে জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণেই এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন আকসেদ আলী বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা।
আবুল কালাম আযাদ জানান, তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকার করেছেন আকসেদ আলী তার মেয়েকে হত্যা করেছেন। যদিও আসামি আকসেদ আলীর ১৫ বছর আগে মৃত্যু হয়েছে। আসামির দুই স্ত্রী এখন এ মামলার সাক্ষী।