ঈদকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী হাট-ভোলা নৌ রুটে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও ছোট লঞ্চে যাতায়াত করছেন। বিপদজ্জনক এই রুটে উত্তাল মেঘনায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত লঞ্চ, সি-ট্রাক বাড়ানো উচিত।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের সঙ্গে ভোলা-বরিশালসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হচ্ছে মজুচৌধুরী হাট দিয়ে নৌ পথ। তাই ওই সব অঞ্চলের যাত্রীদের ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এ রুটটি গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঞ্জার জোনের আওতায় থাকায় শুধুমাত্র সি ট্রাক ও সি সার্ভে সনদধারী লঞ্চ চলাচলের অনুমতি রয়েছে।
.png)
কিন্তু বর্তমানে বিপজ্জনক মৌসুমে অনুমোদিত দুটি সি-ট্রাক ও একটি লঞ্চ চলাচল করায় বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলার ও স্পিডবোট যাতায়াত করতে হচ্ছে। অবৈধ এসব নৌ যানে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন যাত্রীরা।
ভোলা, লক্ষ্মীপুরসহ সাগর উপকূলের ৪টি রুটে ৭ মাসের জন্য এমএল টাইপের লঞ্চ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। ফলে মৌসুমি ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত এসব রুটে চলাচলকারী ১৬টি লঞ্চের রুট পারমিট ওই সময়ের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছিল বলেও জানান বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্পিডবোট, লোহার বডিবোট, কাঠের বোটসহ সব ধরনের নৌ যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
যাত্রী অব্দুল্যাহ বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার সঙ্গে দ্বীপজেলা ভোলার নৌ পথে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুট। এখান দিয়ে খুব সহজ হয়। তাই জরুরি প্রয়োজনে সময় মতো লঞ্চ পাচ্ছি না, তাই বাধ্য হয়ে ট্রলারে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অন্য যাত্রীরা বলছেন, এখন দুর্যোগের মৌসুম। এ সময় যেকোনো মুহূর্তে ঝড় হতে পারে। কিন্তু এ রুটে এখনো নিরাপদ লঞ্চ দেওয়া হয়নি। তাই যাত্রীদের ছোট ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ নৌ বন্দর কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগির এ রুটে আরো ১০টি লঞ্চ দেওয়া হবে। আর যাতে অবৈধভাবে নৌ যান চলাচল করতে না পারে সেজন্য বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের অভিযান চলছে।
লক্ষ্মীপুর নৌ পুলিশের ইনচার্জ বলেন, ঈদে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ নৌ চলাচল বন্ধে কাজ করছে নৌ পুলিশ। আমাদের দুটি টিম সার্বক্ষণিক অভিযানে রয়েছে।