বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর রুপাতলী হাউজিং এলাকার ২২ নম্বর সড়কের সারা-জারা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসি নগরীর রুপাতলী শের-ই বাংলা সড়কের দিনমজুর রিপন হাওলাদারের মেয়ে।
ওই গৃহবধূ মা নূপুর বেগম জানান, তার মেয়ে রুপাতলী এলাকার এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সাত মাস আগে রুপাতলী ভাসানী সড়কের বাসিন্দা অটোচালক রাকিব হোসেনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে তার মেয়ে। পরে মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডিও করেন তিনি। এরপর ছেলের বাবা বিয়ের কথা জানালে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
.png)
তিনি আরো বলেন, এরপর থেকে মেয়ে ভাসানী সড়কের স্বামীর বাসায় থাকতো। দুই মাস আগে মেয়েকে বাসায় দিয়ে যায় জামাই রাকিব। তখন বলে দুই লাখ টাকার ফার্নিচার দিয়ে মেয়েকে পাঠিয়ে দেবেন। আমাদের সামর্থ্য না থাকায় মেয়েকে না পাঠানোর সিদ্বান্ত নেই। কিন্তু কয়েকদিন আগে আবারো জামাইয়ের সঙ্গে পালিয়ে যায় মেয়ে। এরপর আর খোঁজ নেইনি। বৃহস্পতিবার রাতে এক লোক আমাকে হাসপাতালে আসতে বলেন। আমরা আসার পর মেয়ে শুধু এটুকুই বলেছে, তার স্বামী ছাদ থেকে তাকে ফেলে দিয়েছে। এছাড়া আর কিছুই বলেনি মেয়ে।
প্রতিবেশী মো. নিজাম বলেন, আমি বাইরে বের হওয়ার পর হঠাৎ করে ওপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পাই। পরে দেখি ভবনের সামনে রাস্তার ওপর কিছু পড়ে আছে। এরপর নারীর চিৎকার শুনে কাছে গিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে অ্যাম্বুলেন্স এনে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।
ওই ভবনের মালিক স্বপন সরদারের ছেলে মেহেদি বলেন, কিভাবে ওই গৃহবধূ এখানে আসলো বা কয়তলা ছাদ থেকে ফেলা দেওয়া হয়েছে, তা কিছুই বলতে পারি না।
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সাহাদাৎ হোসেন বলেন, ওপর থেকে পড়ে যাওয়ায় ওই গৃহবধূর দুই পা ভেঙে হাড় বের হয়েছে। এছাড়াও মাথায় আঘাত পেয়েছে। পা-ও ভেঙে গেছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের নারী অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, মেয়েটি সুস্থ না হলে কি ঘটনা ঘটেছিল বলতে পারবো না। পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কিছু জানাতে পারছে না। মেয়েটিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটা নিশ্চিত বলেও জানান তিনি।