রোজা পালনে সারাদিন ক্লান্ত দূর করতে ইফতারে যোগ করে নেয়া হয় ডাবের পানি। ডাব দিয়েই চলে ইফতার শুরুটা। পর্যায়ক্রমে ছোলা মুড়ি দিয়ে চলে বাকী ইফতার।
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ডাবে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম থাকে এছাড়া ডাবে পানির অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। শিশুসহ সকল মানুষের পরিমাণমত ডাবের পানি পান করা উচিত। তবে খালি পেটে ডাবের পানি পান না করে কিছু খাওয়ার পর এই পানি পান করার উত্তম।
.png)

তবে বর্তমান বাজারে ডাবের দাম বাড়তি। রোজাদারদের চাহিদা রয়েছে কিন্তু পূর্বের ন্যায় বেচাকেনা কম বলে জানান বিক্রেতারা।
ক্রেতা সাধারণ বলেন, আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় ডাব কিনেছি। সেই ডাব এখন ৮০-৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রমজানে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এক একটি ডাব রমজানের আগে থেকেই ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রতিটি ডাবের দাম।
ডাব বিক্রেতারা বলেন, রমজান উপলক্ষে ডাবের দাম একটু বেশি। ডাবের আড়তেই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে আড়ৎ থেকে ডাব কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রমজানকে কেন্দ্র করে আড়ৎদাররা দাম বাড়িয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে রোজায় দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন ১০০ এর মতো ডাব বিক্রি হতো। কিন্তু রমজান মাসে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টা বিক্রি হয়।

বিক্রি কমার কারণ হিসেবে আজিজুল বলেন, আগে ছাত্ররা সারাদিন ডাব খেতে পারত, কিন্তু রোজা আসায় অনেকেই ডাব খেতে পারে না। তাই বিক্রিও কম। খেতে না পেরে অনেকেই পার্সেল করে নিয়ে যায় এ জন্য দামও একটু বেশি।
জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড় ও ভালো মানের প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। এছাড়া ছোট আকারের প্রতিটি ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারভেদেও উঠানামা করছে ডাবের দাম।
জেলায় কোথাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডাবের চাষ হয় না। বসত বাড়িতে, পতিত জমিতে, উঁচু জমিতে, ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন জমিতে লাগানো গাছ থেকে উৎপাদিত ডাবই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। লক্ষ্মীপুর জেলা সদর রায়পুর, কমলনগর রামগঞ্জে, রামগতিতে সবচেয়ে বেশি নারিকেল গাছ রয়েছে। নারিকেলের দাম কম হওয়ায় ডাবের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক এই ডাব বিক্রি করছেন।
দালালবাজার এলাকার ও রায়পুরের চরবংশীর সাহাদাত ও হারুণের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এই ব্যবসার জড়িত তারা ১৫-১৮ বছর যাবত। সামান্য পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তারা। তখন এলাকা থেকে তারা অল্প ডাব কিনে ঢাকা বিক্রি করতেন। লক্ষ্মীপুর ডাবে প্রচুর পরিমাণ পানি ও মিষ্টি স্বাদ হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে চাহিদা বেড়ে যায়, লাভ ও ভালো।