বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন নারগিস মোস্তারী ও আইয়ুব আলী। এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুইজন মিলে এমদাদুল হককে হত্যা করেন।
নারগিস মীরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ভোরের বাজার এলাকার আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে। আইয়ুব আলী নোয়াখালীর চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে ভোরের বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।
.png)
জবানবন্দিতে নারগিস জানান, এক বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরেন তার স্বামী এমদাদুল হক। তাদের সংসারে দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে প্রায় ঝগড়া হতো নারগিসের। দাম্পত্য কলহ ও সম্পত্তির লোভে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নারগিস। হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করতে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে আইয়ুব আলীকে ভাড়া করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেলে সেমাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে অচেতন করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইয়ুব আলীর সহায়তায় স্বামীর হাতে জিআই তার পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যার পর রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে যান আইয়ুব আলী। রাত ২টার দিকে দেবর কামাল পাশাকে ফোন করে নারগিস জানান- বৈদ্যুতিক শক খেয়েছেন তার ভাই।
বুধবার সকালে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এমদাদুল হকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় রাতেই দুইজনকে আসামি করে মীরসরাই থানায় মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই কামাল পাশা।
মীরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, সম্পত্তির লোভ ও দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী এমদাদুল হককে হত্যার পরিকল্পনা করেন নারগিস। হত্যাকাণ্ডে তাকে সহায়তা করেন আইয়ুব আলী। আইয়ুব আলী পেশায় দিনমজুর। ৫০ হাজার চুক্তিতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন তিনি।
ওসি আরো বলেন, এমদাদুল হকের লাশ উদ্ধারের পর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী নারগিসকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন নারগিস। একইসঙ্গে আইয়ুব আলীর জড়িত থাকার বিষয়টিও জানান। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকা থেকে আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নারগিস ও আইয়ুব আলী। পরে তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।