ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
হোটেলে তরুণী হত্যার রহস্য উদঘাটন

‘প্রথমে গলায় চালান চাকু পরে মৃত্যু নিশ্চিতে কাটেন দুই হাতের রগ’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ২১ মার্চ ২০২৩
‘প্রথমে গলায় চালান চাকু পরে মৃত্যু নিশ্চিতে কাটেন দুই হাতের রগ’
গ্রেফতারকৃত রাকিবুল ইসলাম রাকিব

ময়মনসিংহ নগরীর ছোট বাজার এলাকায় আবাসিক হোটেলে তরুণীকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় হোটেলে ওই তরুণীকে গলা কেটে হত্যা করেন অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম রাকিব।  

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ। এর আগে গত ১৯ মার্চ রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাকিবের অবস্থান শনাক্ত করে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাকিব মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নতুন চরচাষী এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, পড়াশুনার পাশাপাশি সমাজ সেবা অফিসে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করেন রাকিব। গত ১৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি আগারগাঁও অফিস থেকে মিরপুর শেওড়া পাড়া বাসস্ট্যান্ড যান। শেওড়া পাড়া ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় এক পতিতা তাকে ডাক দেয়। তখন রাকিব তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। ওই নারী পাঁচ হাজার টাকা নেয়ার শর্তে ময়মনসিংহ যেতে রাজি হলে রাত ১০টার দিকে রাকিব তাকে নিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বাসযোগে রওনা দেন। এরপর রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহে পৌঁছে হোটেল নিরালার ২০৯ নম্বর কক্ষে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওঠেন তারা।

Advertisement

তিনি আরো জানান, ওই নারী পরদিন ১৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে যাওয়ার সময় শর্ত অনুযায়ী রাকিবের কাছে ৫ হাজার টাকা চান। কিন্তু রাকিব দেন এক হাজার টাকা। এ নিয়ে হোটেল কক্ষে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাকিব বিকাশ থেকে টাকা উত্তোলনের কথা বলে হোটেল থেকে বাইরে গিয়ে ১০০ টাকার একটা চাকু কিনে নিয়ে আসেন। পরে দরজা বন্ধ করে ওই তরুণীকে গলায় চাপ দিয়ে ধরে রাথরুমে নিয়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত হতে দুই হাতের রগ কেটে দেন তিনি। এরপর হোটেল কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যান রাকিব।

ঘটনার তিন দিনের মাথায় গত ১৮ মার্চ দুপুরে ওই হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকারীর পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তদন্তককারী কর্মকর্তা এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন, এসআই নিরুপম নাগ, এসআই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল মিজানুর রহমান অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে ঘাতক রাকিবকে গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি রাকিব। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!