রোববার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জামশেদ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার গুল্লাখালী এলাকার সাইদুল হক চৌধুরীর ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এমএ নাসের চৌধুরী বলেন, চিকিৎসককে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে অটোরিকশাচালক মো. জামশেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্য একটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় জামশেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
.png)
২০১৬ সালে ২৪ মার্চ নগরের জিইসি মোড়ের স্যানমারের সামনে থেকে টেক্সটাইল গেট যেতে অটোরিকশায় উঠেন ঐ নারী চিকিৎসক। অটোরিকশাটি দুই নম্বর গেট দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যানজটের কারণে মুরাদপুর মোড় দিয়ে টেক্সটাইল গেট পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান চালক।
কিন্তু পরে মুরাদপুর দিয়ে না গিয়ে বন গবেষণাগারের রাস্তা দিয়ে যেতে চাইলে অটোরিকশা থামাতে বলেন ঐ চিকিৎসক। এরপরও না থামিয়ে বন গবেষণাগারের পশ্চিমে পাহাড়ের নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামান চালক জামশেদ। সেখানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চিকিৎসকের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন জামশেদ।
চিকিৎসকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঐ সময় জামশেদ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। ঐ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। ২০১৬ সালের ৯ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করে আদালত। মামলাটিতে সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।