এভাবে ভয়াবহ দুর্ঘটনার বর্ণনা দেন নতুন জীবন পাওয়া ইমাদ পরিবহনের যাত্রী উজ্জ্বল। আহত উজ্জ্বলের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকায়।
উজ্জ্বল বলেন, ‘শুরু থেকেই বাস দ্রুতগতিতে চলছিল। এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীদের অনেকেই নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন তখন। কেউ কেই চোখ বন্ধ করে ঝিমুচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় কিছুই টের পাইনি। যখন জ্ঞান ফেরে দেখি চারপাশে রক্ত আর লাশ। উঠে বসতে গেলে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। পরে কিছুটা সুস্থবোধ করলে চারপাশে বোঝার চেষ্টা করি। তখন টের পাই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে! সড়ক থেকে গাড়ি উল্টে নিচে পরে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ’
.png)
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হঠাৎ করেই বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। তারা দৌড়ে এসে দেখতে পান একটি বাস মহাসড়ক থেকে নিচে পরে উল্টে যাচ্ছে বার বার। এরপরই চিৎকার আর আহাজারি ভেসে আসে। কালক্ষেপণ না করে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে যায় সেদিকে। বাসের মধ্যে থেকে গোঙানির শব্দ বের হচ্ছিল তখন। চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা আহতদের বের করার কাজে নেমে পড়ে। ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আসে।
স্থানীয় যুবক আল আমিন বলেন, এতো বড় দুর্ঘটনা আমরা আগে দেখিনি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল সময় থেমে গেছে। কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না! পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে উঠতে কিছু সময় পার হয়ে যায়।
আরিফ শেখ নামের খুলনার আহত আরেক যাত্রী বলেন, দ্রুতগতিতে চলছিল বাসটি। মুহূর্তেই রাস্তার রেলিং ভেঙে উল্টেপাল্টে নিচে পড়ে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে আমার।
প্রসঙ্গত, মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। রোববার সকালে শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ, শিবচর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম।