ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান ইউনিয়নের পালোহারা গ্রামে। জমকালো আয়োজনে রিমা খাতুনের বিয়ের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত ৬৫ জন গরিব এতিম মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ী রুহুল আমীন।
কনে রিমা খাতুন বলেন, ‘বাবাকে হারিয়েছি অনেক দিন আগে। মা থাকেন বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল খুপরি ঘরে। দীর্ঘদিন খালার বাসায় বসবাস করছি। কখনো ভাবিনি এত ধুমধামে আমার মতো এতিম মেয়ের বিয়ে হবে। আজ বুঝলাম, যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন।’
.png)
স্থানীয়রা জানায়, টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রিমার মা রেহেনা বেগম। মাঝে মাঝে বোনের বাসায় রেখে যাওয়া মেয়েকে দেখতে আসতেন। মেয়েকে দেখার পরপরই শুরু হতো কান্না। বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয়রা বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমীন রুবেলের সন্ধান দিলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রেহেনা। রুবেল বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করতে বলেন তাকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে জমকালো আয়োজন দেখা যায়। চলছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য রান্নার আয়োজন। একটি কক্ষে দেখা যায় কনেকে সাজানোর কাজে ব্যস্ত একজন বিউটিশিয়ান। এর মধ্যেই বরের জন্য প্রস্তুত মঞ্চ। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়ল বরযাত্রীরা। বর পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়া গ্রামের রহমান আলীর ছেলে পলাশ আলী। তিনি রূপপুর ইপিজেডে চাকরি করেন। বরকে দামি ব্রান্ডের একটি ঘড়ি দিয়ে বরণ করেন ব্যবসায়ী রুবেলের চাচা।
আবেগে আপ্লুত রেহেনা বেগম জানান, কখনো ভাবেননি তার মেয়ের এত বড় আয়োজনে বিয়ে হবে। এ সময় রুবেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
রুহুল আমীন রুবেল বলেন, ‘আল্লাহর কৃপায় এ পর্যন্ত ৬৫টি মেয়ের বিয়ে দিতে পেরেছি। ২০০৫ সাল থেকে আমার এই যাত্রা শুরু। ১৭ বছর ধরে গরিব, অসহায়, এতিম মেয়েদের বিয়ের পাশাপাশি সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার আমার নিজ এলাকার দুস্থ মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করে আসছি। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঈদ, বিশেষ দিনসহ বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করি।’
তিনি আরো বলেন, সমাজের বিত্তবানরা তাদের আশপাশের গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ালে হাজারো মানুষ ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।