ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিয়ে হচ্ছে প্রেমিকের, বিয়েবাড়িতে গিয়ে পেটে ছুরি চালালেন প্রেমিকা

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ১৭ মার্চ ২০২৩
বিয়ে হচ্ছে প্রেমিকের, বিয়েবাড়িতে গিয়ে পেটে ছুরি চালালেন প্রেমিকা
প্রেমিক পাপ্পু মিয়া ও মনি আক্তার

বৃহস্পতিবার তখন বেলা ১১টা। ওই সময় ধুমধামে চলছে বিয়ের আয়োজন। বাড়িভর্তি স্বজনরা। বরবেশে বিয়ে করতে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলেন পাপ্পু মিয়া। এমন সময় সেখানে ছুটে আসেন এক নারী। পাপ্পুকে বরের সাজে দেখেই নিজের পেটে ছুরিকাঘাত করেন ২৫ বছর বয়সী ওই নারী। এ সময় তিনি দাবি করেন, পাপ্পুর সঙ্গে তার প্রেম ছিল। তবে ঘটনার পর বিয়ে ফেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেমিক পাপ্পু।

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোণার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাঁশরী কান্দাপাড়া গ্রামে। পরে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

প্রেমিকা মনি আক্তার মদন নায়েকপুর ইউনিয়নের আখাঁশ্রী গ্রামের শাজাহান মিয়ার মেয়ে। আর প্রেমিক পাপ্পু মিয়া একই উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাঁশরী কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

Advertisement

এলাকাবাসী জানান, মনি ও পাপ্পুর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। মনি চট্টগ্রামে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পাপ্পু এলাকায় একটি ইলেকট্রিক দোকান চালান। মোবাইল ও ফেসবুকের সূত্রে প্রেম হয়। প্রেমের সূত্রে অনেকবার চট্টগ্রাম যান পাপ্পু। তারা বিভিন্ন সময় একান্ত সময়ও কাটান তারা। 

সম্প্রতি পাপ্পুর পরিবার কেন্দুয়া উপজেলাধীন চিতুলিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে দুলেনা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। বৃহস্পতিবার বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার কথা পাপ্পুর। এই খবর পেয়ে বুধবার রাতের বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে এলাকায় আসেন মনি আক্তার। পরে বেলা ১১টার দিকে বরযাত্রী রওনা হওয়ার মুহূর্তে পাপ্পুর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন মনি। একপর্যায়ে ক্ষোভে বিয়েবাড়িতেই নিজের পেটে ছুরিকাঘাত করেন মনি। এসব দেখে বিয়ে ফেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন পাপ্পু।

পাপ্পুর মা বেদেনা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে এলাকায় ব্যবসা করে। আর ওই মেয়ে চট্টগ্রামে চাকরি করে পোশাক কারখানায়। বৃহস্পতিবার বরযাত্রী নিয়ে নতুন বউ আনতে যাওয়ার কথা পাপ্পুর। কারও কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই মেয়ে বাড়িতে এসে পেটে ছুরি চালায়। সেই থেকে পাপ্পুর খবর পাচ্ছি না। তার মোবাইলটিও বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিয়ের আয়োজনও শেষ হয়ে গেল।’

মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর শুনে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!