ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রণক্ষেত্র 

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:২৬, ১৬ মার্চ ২০২৩
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রণক্ষেত্র 
মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিক্ষব্ধরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে দশম শ্রেণির একছাত্রীকে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোকতল হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।

বুধবার বিকেলে দেবিদ্বার সার্কেলের এএসপি আমিরুল্লাহ ও দেবিদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ ধর ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ সময় জনতা-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫ পুলিশসহ বেশ ক’জন আহত হয়।  আহতদের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে ও সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। ওই ঘটনা ছাত্রীর সহপাঠিরা দেখে ফেলে। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে। 

Advertisement

এ সময় প্রধান শিক্ষককে রক্ষায় তার পক্ষে বহিরাগত কিছু লোকজন এসে ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫-২০জন শিক্ষার্থী আহত হয়। ছাত্র আহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ সময় প্রধান শিক্ষক মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগ তোলেন তারা। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবকরাও আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

খবর পেয়ে দেবিদ্বার সার্কেল এএসপি আমিরুল্লাহ ও দেবিদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ ধর ঘটনাস্থলে আসেন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগীতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষককে স্কুল মাঠে এনে বিচারের দাবি জানায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ও প্রধান ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা করে এবং প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিসহ দুইটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ।

রাত পৌনে ৯টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান ও দেবিদ্বারের ইউএনও ডেজী চক্রবর্তী বিপুল সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার অবরুদ্ধ থেকে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

দেবিদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ এনে জনতা ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে কয়েক ঘণ্টা। খবর পেয়ে রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!