ব্রিজ দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল উঠা নামা করা সম্ভব হচ্ছে না। ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে মেরামত করেছে এলাকাবাসী। আর জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজটি নির্মাণে নিচ্ছেন না তেমন কোনো পদক্ষেপ। যদিও তাদের দাবি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প এলেই নির্মাণ করা হবে নতুন ব্রিজ।
সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউপির দক্ষিণ লামচরী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা বাজার সংলগ্ন খালের ওপরের ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে নির্মিত ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
.png)
ব্রিজের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায়, মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী। রেলিংবিহীন ব্রিজে উঠতে বড় একটি গর্ত হয়েছে। বেরিয়ে গেছে রড, খসে গেছে ডালাই। ব্রিজে উঠলেই কেঁপে উঠে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে। ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। ব্রিজটিতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দুই যুগ আগে ঢালাইয়ের আয়রণ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো সংস্কার কিংবা মেরামত করা হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজেরওপর দিয়ে প্রতিদিন লামচরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকার লামচরী বাজার থেকে হাজার হাজার মানুষ ব্রিজের ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করেন।
মোটরসাইকেল চালক আসাদ বলেন, ব্রিজের নিচের কিছু কিছু জায়গা থেকে রড বের হয়ে গেছে। কাঠের তক্তা ব্যবহার করে মোটরসাইকেল যাতায়াত করছেন। আমাদের প্রতিদিন এই পথে যাওয়া আশা করতে হয়। অনেক কষ্টে করে যাতায়াত করতেছি। এখান থেকে শতশত মানুষ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা এই ব্রিজ দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটার আগেই ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা।
লামচরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি পার হয়ে আমাদের স্কুলে যেতে হয়। একসঙ্গে তিনচারজনের বেশি ব্রিজটিতে উঠতে পারে না। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল মামুন আকন বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহাতাব উদ্দিন সুরুজ বলেন, ব্রিজটি সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত দেয়া হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।