বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজিমুদ্দৌলা এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন পলাতক রয়েছেন। ইকবাল শৈলকুপা উপজেলার কবিপুর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে।
জানা যায়, ইকবাল হোসেন এক সময় বিদেশে থাকতেন। তিনি দেশে ফিরে বাবা গোলাম নবীর কাছে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হতো। ইকবালের বাবা-মা তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বসবাস করতেন। ইকবাল টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের হত্যা করাসহ বিভিন্ন হুমকি দিতেন। ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইকবাল হোসেন তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোস্তাফা সাফিন এবং মোস্তফা আমিন ও বোন জেসমিন আক্তারের ছেলে মাহিনকে মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর কথা বলে নিজ ঘরে ডেকে নেন।
.png)
পরে তাদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন ইকবাল। ঐ তিন শিশুকে ঘরের জানালায় বেঁধে ঘরে রাখা গ্যাসের সিলিন্ডারের মুখ খুলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই সাফিন ও আমিন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভাগনে মাহিনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাফিন ও আমিনের বাবা দেলোয়ার বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ একই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইকবালকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ মামলায় একমাত্র আসামি ইকবালকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।