ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলার মধ্য পুটিয়াখালি গ্রামে। এ ঘটনায় স্ত্রী সাপিয়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
নিহত আউয়াল তালুকদার পেশায় অটোবাইক চালক। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে। আটককৃত সাপিয়া বেগম শরিয়তপুরের নুরিয়া উপজেলার মৃত নজরুল ইসলাম মুন্সির মেয়ে।
.png)
পুলিশ জানায়, আউয়াল তালুকদার তিন মাস আগে উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে গোপনে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী সাপিয়া বেগমের চার কাঠা জমি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে লিখে দেন স্বামী। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী সাপিয়ার সঙ্গে স্বামী আউয়াল তালুকদারের মধ্যে কলহ চলছিল। এরই জেরে রোববার রাতে খাবারের সঙ্গে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান সাপিয়া। এরপর রাত ২টার দিকে হাত-পা বেঁধে স্বামী আউয়ালকে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে ৯৯৯- এ কল দিয়ে পুলিশকে খবর দেন স্ত্রী। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সাপিয়া আটক করে।
নিহতের নবম শ্রেণিতে পড়া ছেলে রাফিন তালুকদার বলেন, গত তিন মাস আগে আঙ্গারিয়া গ্রামের এক নারীকে গোপনে বিয়ে আমার বাবা। পরে এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার কথা বলে আমার মা সাপিয়া বেগমের সই নেন বাবা। পরে মা জানতে পারেন দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে চার শতাংশ জমি লিখে দেন বাবা। এ নিয়ে প্রায়ই বাবা মায়ের মধ্যে মারামারি হতো। রোববার রাতে ১০টার দিকে ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে মাকে মারধর করেন বাবা। পরে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেন মা।
ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ত্রী সাপিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাপিয়া বেগমের নামে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের ভাই আবুল হোসেন তালুকদার।