নিহত পোশাককর্মীর নাম নাজমা খাতুন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার পাকুরতলা গ্রামের মাসুদ আলীর মেয়ে। পলাতক স্বামীর নাম ফারুক। তারা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন করমতলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় রিপন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তারা দুইজন পূবাইল থানাধীন সাতখোয়া এলাকায় নেক্সট কম্পোজিট নামক একটি কারখানায় চাকরি করতেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের পূবাইল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নাজমা বেগমের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের সংসারে একটি ১০ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। আগের স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি কারখানায় কাজ শুরু করেন। কর্মসূত্রে পরিচয় হয় ফারুকের সঙ্গে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই বছর আগে ফারুকের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। নাজমার দ্বিতীয় বিয়ের পর তার মেয়ে নানার বাড়িতে থাকে। নাজমা এবং ফারুক পূবাইল থানার করমতলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় রিপন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
.png)
তিনি আরো জানান, নাজমার বাবা দিনমজুর। শনিবার বিকেল থেকে ফোন করে মেয়েকে পাচ্ছিলেন না। ফোন করলে মেয়ে ফোন ধরছিল না। তিনি ভেবেছিলেন মেয়ে হয়তো ডিউটিতে আছে, তাই ফোন ধরছে না। রোববার সকালেও ফোন না ধরায় তিনি মেয়ের খোঁজ নিতে ভাড়া বাসায় এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে- পারিবারিক কলহের জেরে গত শুক্রবার থেকে শনিবার সকালের মধ্যে কোনো এক সময় ফারুক তার স্ত্রী নাজমার মাথায় আঘাত করে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে ফারুক পালিয়ে যান। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত ফারুককে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।