সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় পৌঁছাতেই হঠাৎ বাসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তারা। এ সময় ছিনিয়ে নেয়া হয় সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট, টাকা, বাসের টিকিটসহ মুঠোফোন। সব হারিয়ে এখন তারা নিঃস্ব। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমিনুলের চিকিৎসা।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভুলেশ্বর গ্রামে। একটি বাসে প্রথমে কাপাসিয়া থেকে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর যাওয়ার কথা ছিল আমিনুল ও হোসনে আরার। এরপর সেখান থেকে রাত সাড়ে ১১টার বাসে যশোরের বেনাপোল এবং সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতার টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে যায়।
.png)
আমিনুলের ছোট ভাই মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে আমিনুল বাড়ি থেকে বের হন সন্ধ্যা ৬টার দিকে। কাপাসিয়ার তরাগাঁও মোড় থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সম্রাট পরিবহন নামের একটি বাসে রাজধানীর আবদুল্লাহপুরের দিকে রওনা হন তারা। এরমধ্যে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি মিলগেট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বাস তাদের বাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাস থামিয়ে দুই বাসের চালক ঝগড়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই ছিনতাইকারী বাসের জানালা দিয়ে ওঠে ব্যাগ টান দেন। এ সময় আমিনুল ও হোসনে আরা ব্যাগ ধরে ফেলেন। ব্যাগ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা চাকু বের করে ভয় দেখালে তারা ব্যাগ ছেড়ে দেন। ব্যাগে ছিল দুজনের পাসপোর্ট, বেনাপোল পর্যন্ত বাসের টিকিট, চিকিৎসাবাবদ ৬০ হাজার টাকা, ৮ হাজার ইন্ডিয়ান রুপিসহ ২টি স্মার্টফোন।
নজরুল জানান, আমার ভাই গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। অনেক চিকিৎসা করেও সুস্থ হচ্ছিলেন না। পরে অনেক কষ্টে কিছু টাকার জোগাড় করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরমধ্যেই এমন ঘটনা ঘটে গেল। এখন তার সব শেষ। পাসপোর্ট না থাকায় চিকিৎসাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই টঙ্গী পূর্ব থানায় যোগাযোগ করেন তারা। পরে মো. আশরাফ নামের এক এসআই ঘটনার তদন্ত করতে যান। তবে এখনো কোনো ছিনতাইকারী ধরা পড়েনি বা মালামাল উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্ট উদ্ধার হওয়াটা খুব জরুরি। পাসপোর্ট না পেলে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়। এদিকে রোগীর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
এসআই মো. আশরাফ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সোর্স নিয়োগ করেছি। তবে আশপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেল কাজ আরও সহজ হতো।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. আশরাফুল আলম বলেন, যেহেতু বিষয়টি রোগী ও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এরমধ্যে ছিনতাইকারী কোন এলাকার, তা শনাক্ত করা গেছে।