এর আগে, শনিবার দুপুরে নগরের টাইগারপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. রাসেল নগরের ডবলমুরিং থানার মতিয়ারপুল এলাকার ফজল হকের ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীর স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি ২০১৭ সালে দেশে আসলে রাসেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে সুবাদে প্রায়সময় তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন রাসেল। একপর্যায়ে মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন রাসেল। এর কিছুদিন পর ভুক্তভোগীর স্বামী পুনরায় বিদেশ চলে যান।
.png)
বিদেশ যাওয়ার সময় ধারের টাকা প্রতিমাসে কিছু কিছু করে স্ত্রীর হাতে দিতে রাসেলকে বলে যান ভুক্তভোগীর স্বামী। একইসঙ্গে তার পরিবারের খোঁজখবর রাখতে বলেন। এরপর থেকে প্রায়সময় টাকা দিতে তাদের ঘরে যেতেন রাসেল। এভাবে চলতে থাকলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে রাসেলের ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ঐ বাড়িতে অবাধ চলাচলের সুবাদে ভুক্তভোগীর অজান্তে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন রাসেল। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং রাজি না হলে এগুলো তার স্বামীসহ সবার কাছে ছড়িয়ে দিয়ে সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। এতেও রাজি না হলে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ডবলমুরিং থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগী। এরপর রাসেলকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে তার মোবাইল থেকে ভুক্তভোগীর ছবি ও ভিডিও মুছে দিয়ে এ ধরনের কাজ আর করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রাসেল। এরপর ভুক্তভোগীর এসব ছবি ও ভিডিও এডিট করে তার স্বজন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এছাড়া ভুক্তভোগীকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান রাসেল। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে নগরের টাইগারপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয় স্বীকার করেন রাসেল। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।