ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঐতিহ্যবাহী খারুয়া মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ২০:০১, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ঐতিহ্যবাহী খারুয়া মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আড়াই’শ বছরের বেশি সময় ধরে বগুড়ায় হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী খারুয়া মেলা। এ যেন কেবল একটি মেলাই নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। মেলায় রয়েছে বড় বড় মাছ, আসবাবপত্র, নারীদের প্রসাধনী ও ছোটদের খেলনাসহ আরও অনেক কিছু। এমনকি বাদ পড়েনি নিষিদ্ধ বাঘাইর মাছও! তবে এ সবকিছু ছাপিয়ে যায় যখন এ মেলায় হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

খারুয়া মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ। এই মেলাকে স্থানীয়ভাবে খাউড়া মেলা বলে অনেকেই। এছাড়াও প্রধান আকর্ষণ মাছ হওয়ায় মাছের মেলা নামেও পরিচিত এটি। মেলা উপলক্ষে শুধু ওই উপজেলাতেই নয়, জেলাজুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ।

বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা খারুয়া এলাকায় এ মেলা শুরু হয়েছে। মেলাটি একদিনের হলেও উৎসব থাকে তিনদিন ধরে। মঙ্গলবার রাত থেকেই মেলা বসেছে। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হবে।

Advertisement

দুপুরে মেলা ঘুরে দেখা গেছে অন্যান্য মাছের সঙ্গে দুজন ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ বাঘাইর মাছ নিয়ে এসেছেন। তাদের একজন সাখাওয়াত হোসেন। সিরাজগঞ্জে তার বাড়ি। তার মাছের দোকানে ছোট-বড় চারটি বাঘাইর মাছ আছে। এরমধ্যে দুটি বড়। একটির ওজন ১৭ কেজি, অন্যটির ১৬ কেজি। ১২০০ টাকা কেজিতে মাছ দুটি বিক্রি করবেন তিনি।

বাঘাইর মাছ নিয়ে আসা অন্যজন হলেন বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সোহেল। তার দোকানে দুটি বাঘাইর মাছের দেখা মেলে। জানতে চাইলে তারা বলেন, বাঘাইর মাছ শুধু বগুড়াতেই বিক্রি করতে ঝামেলা হয়। এছাড়া অন্য কোথাও এই মাছ বেচাকেনায় কেউ নিষেধ করেন না।

মাছ ব্যবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, ঢাকায় প্রকাশ্যে শতশত বাঘাইর মাছ কেনাবেচা হয়। 

অথচ মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বাঘাইড় মাছ কেনাবেচা ও প্রদর্শন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নিষেজ্ঞাধার কথা জানানো হয়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশমাছ ব্যবসায়ীর ফজলে রাব্বী, বাবু মিয়া ও আজিজার বলেন, রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাস কার্প, বোয়াল, সিলভার কার্প, ব্লাক কার্প,  কালবাউশ, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির  মাছ কেনাবেচা হচ্ছে মেলায়।

এবার মেলায় উঠেছে ২২ কেজি ওজনের একটি ব্লাক কার্প মাছ। মাছটি নিয়ে এসেছেন মাছ ব্যবসায়ী বাবু মিয়া। ১৩ হাজার ২০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন এ ব্যবসায়ী। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা চলছে। এবার খারুয়া মেলায় তিনশ’রও বেশি দোকান বসেছে। এরমধ্যে ৫০টি মাছের দোকান রয়েছে। অন্যগুলো কাঠের আসবাবপত্র, নারীদের প্রসাধনী, শিশুদের খেলনাসহ আরও বিভিন্ন দোকান।

মেলায় বাঘাইর মাছ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানম বলেন, বাঘাইর মাছ যেন বেচাকেনা না হয়, তা মেলা কর্তৃপক্ষকে বলা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!