সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ভাষা আন্দোলনের ৭৫ বছরেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কারো কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি আজ অবধি।
তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে। বাধ্য হয়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনের জন্য অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। সেখানেই কোনো মতো জানানো হয় শ্রদ্ধা। এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জেলার সদর উপজেলার চররমনীমোহন ইউপির উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যোরোর অধিনে এনজিও ডরপ’র প্রাথমিক বিদ্যালয়।
.png)
শহিদ মিনার না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় সাদা আর্ট পেপারে শহিদ মিনারের ছবি এঁকে সেখানে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তাদের দাবি, শুধু তাদের বিদ্যালয়েই নয়, দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে যেন সরকারিভাবে স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। তাতে তারা ভালোভাবে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।
চররমনীমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তয় শ্রেণির ছাত্র আরিফ হোসেন বলে, আমাদের স্কুলে শহিদ মিনার নেই। তাই আমি ও আমার ক্লাসের বন্ধুরা মিলে বড় সাদা কাগজ কিনে শহিদ মিনার আঁকিয়ে ওয়ালে (বাউন্ডারি) আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছি। আর সেই শহিদ মিনারে সবাই মিলে ফুল দিয়েছি।
শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম জানালেন, আমাদের বিদ্যালয়ের মতো লক্ষ্মীপুর জেলায় ২১০টি স্কুল রয়েছে। জেলার ৮০ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো শহিদ মিনার নেই। তাই মাতৃভাষা দিবসে স্কুলে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করি। আর এবার শিক্ষার্থীরা প্রতিকৃতি স্বরূপ শহিদ মিনার আর্ট পেপারে এঁকে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি পালন করেছি।
তিনি আরো বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে শহিদ দিবসের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারবো।