ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ

শজিমেক হাসপাতালে ‘দালাল পোষা’ সেই মোস্তাফিজুরের বদলি

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
শজিমেক হাসপাতালে ‘দালাল পোষা’ সেই মোস্তাফিজুরের বদলি
ফাইল ছবি

ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তিনি বগুড়া ছিলিমপুর (মেডিকেল) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) ছিলেন। তাকে একই জেলার সারিয়াকান্দি চন্দনবাইশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। 

রোববার বিকেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি ডেইলি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিকী। গতকাল শনিবার তার বদলির আদেশ জারি হয়। 

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘দালালদের দৌরাত্ম্যে নাকাল শজিমেক হাসপাতাল’-শিরোনামে ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল দালালদের অভয়ারণ্যে হয়ে উঠেছে। রোগীদের খদ্দের বানিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর ঘুষের বিনিময়ে এ কাজে সহয়তা করছেন পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান!

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, শজিমেক হাসপাতাল ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ফার্মেসির দালাল চক্র। হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠেছে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক। সেগুলোতে রোগী যোগানদাতা হিসেবে শজিমেকে দালালেরা অবস্থান করেন। নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে রোগীদেরকে ক্লিনিকগুলোতে নিয়ে যান তারা। এছাড়াও সুযোগ বুঝে রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে কয়েকগুণ বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করেন ফার্মেসির দালালেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শজিমেক হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্যতম দিগন্ত ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন  ও এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ দুই ক্লিনিকের ১৬ জন দালাল রয়েছেন। তাদের মধ্যে এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রয়েছেন ৪ জন। আর দিগন্ত ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশনের রয়েছেন ১২ জন। তারা শজিমেক চত্বর ও এর আশপাশে ঘোরাফেরা করেন এবং রোগীর অপেক্ষায় থাকেন। গ্রাম-গঞ্জ থেকে কোনো রোগী শজিমেকের উদ্দেশে চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়েন। তাদের শজিমেক চত্বর অথবা মূল ফটকের সামনে থেকে কৌশলে নেয়া হয় ক্লিনিকে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তাদের বিশ্বাস করে প্রতারিত হন। রোগীদের জিম্মি করে ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করে আসছেন তারা। এছাড়াও শজিমেক হাসপাতাল সংলগ্ন  ফার্মেসিগুলোর আরও ১২ জন দালাল রয়েছেন। 

দিগন্ত ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশনের দালালরা হলেন, রবিউল, মামুন নামে দুজন, রেজা, রুবেল, জুয়েল, শামীম, রনি,আব্দুল আজিজ ও দুই নারী। আর আনোয়ার, দুলু, জামরুল ও মামুন হলেন এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালাল। এছাড়াও আব্দুল কুদ্দুস, মিথন, রবিউল, হৃদয়, মোমিন, পারভেজ, রায়হান, স্বাধীন, সুমন, রফিকুল, মিনহাজ্ব ও বাপ্পী হলেন ফার্মেসিগুলোর দালাল।

এসব দালালদের মধ্যে রবিউল, রফিকুল, দুলুসহ দুই নারীকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দালাল চক্রের কাছ থেকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। বিপুল নামের এক ব্যক্তি দালালদের পক্ষ থেকে তাকে এই টাকা দেন। 

নাম গোপন রাখার শর্তে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুরের কারণে বর্তমানে শজিমেক দালালদের অভয়ারণ্যে হয়ে উঠেছে। তার বদলিতে শজিমেক হাসপাতাল এখন দালালমুক্ত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেছিলেন, দালালদের কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নেইনি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, হাসপাতাল দালালমুক্ত রাখতে নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়া হয়। এরমধ্যে পাঁচ দালালকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ সদস্যরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!