দুলাল প্রামাণিক বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বেজোড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি মাছ ব্যবসায়ী। হাট-বাজারে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।
গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন মেলায় লটারি জুয়ার পাঁচ মাসে প্রায় এক লাখ টাকার লটারি কিনেছেন তিনি। সম্প্রতি বগুড়ায় শুরু হওয়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার লটারি কিনছেন নিয়মিত। এই লটারি জুয়ার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো পুরস্কার পাননি তিনি। তবুও ছাড়েননি আশা। প্রতিদিনই কিনছেন লটারি।
.png)
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বি-ব্লক মাঠে শুরু হয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে মেলার প্রবেশ মূল্যের লেবেলে শুরু হয় লটারি জুয়া। প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। যা স্থানীয় ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন কোম্পানির একাধিক মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ জুয়ার নয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বন্ধ হয়নি। জেলাজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজার হাজার মানুষ আকর্ষণীয় পুরস্কারের লোভে জুয়ার লটারি কিনছেন। এমনকি টিফিনের সময় না খেয়ে সেই টাকায় স্কুল শিক্ষার্থীরাও কিনছে লটারি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩০০ ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে জেলার প্রতিটি উপজেলায় লটারি বিক্রি করছেন মেলার প্রচারকর্মীরা। প্রতিটি লটারির মূল্য ২০ টাকা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাগ্য যাচাই করতে লটারি জুয়ায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে দুলাল একজন।
দুলাল জানান, পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন মেলায় শুরু হওয়া লটারি জুয়ায় অংশ নিয়ে আসছেন। এসব মেলা চলে মাসব্যাপী। পাঁচ বছরে প্রায় এক লাখ টাকার লটারি কেনেন তিনি। পুরস্কার পাওয়ায় আশায় লটারি কিনেই যাচ্ছেন। লটারিতে মোটরসাইকেল পাওয়ার আশা তার। আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের দেখা না পেলেও এবার পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
শুধু দুলালই নন, তার মতো হাজার হাজার মানুষ বগুড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় চলা লটারি জুয়ায় মেতে আছেন। এই মেলার আয়োজক বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
জানতে চাইলে সংগঠনটির বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এবারের মেলায় আয়োজন আমরাই করেছি।
লটারি বিক্রির অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, আমি অফিসে আছি, অফিসে এসে দেখা করেন।
জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেছিলেন, লটারি বিক্রির কোনো অনুমতি আমরা দেইনি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি লটারি চালু না করার জন্য মেলা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে তার এ বক্তব্যের ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি লটারি বিক্রি।
জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) জি এস এম জাফরউল্লাহ্ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বগুড়ায় লটারি বিক্রির বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে।