এরইমধ্যে মাথায় লম্বা মুকুট আর গায়ে শেরওয়ানি পরে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসেন পাত্র। তার সঙ্গে হেলিকপ্টারে ছিল আরো ৩ জন যাত্রী। প্রাইভেটকারে করে বিয়ের আসরে যান হৃদয় হক নামে ইতালি প্রবাসী যুবক।
উৎসুক কয়েক শ জনতা হেলিকপ্টার উঠানামা দেখতে ভিড় করে। তবে বরযাত্রীরা আসেন সড়ক পথে মাইক্রোবাসে চড়ে। ঊৎসুক জনতার ভিড় ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।
.png)

জানা যায়, উপজেলার ধরখার ইউপির ছতুরা শরীফ গ্রামের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জুরুর ইতালী প্রবাসী ছেলে হৃদয় হকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় পৌরশহরের রাধানগর এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মহব্বত আলীর মেয়ে তাবাজুম আক্তারের সঙ্গে।
সোমবার ছিল বিয়ের দিনক্ষণ। দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ভাড়া করা একটি হেলিকপ্টারে করে বর হৃদয় হক আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠে নামেন। পরে একটি সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে চড়ে বিয়ে করতে যান স্থানীয় বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে। বিয়েতে প্রায় ৫০০ অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়। এদিকে বর হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে আসছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর গড়ানোর আগেই কলেজ মাঠে উৎসুক জনতা এসে ভিড় করতে থাকে। তারা প্রতীক্ষা করতে থাকেন কখন হেলিকপ্টারে চড়ে বর আসবে।

বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারের মালিক মো. মাসুকুর রহমান বলেন, এই প্রথম এখানে কেউ হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে এসেছেন। বরের হেলিকপ্টারের উঠামানা দেখতে দুপুরের আগেই এখানে মানুষ এসে ভিড় করে। ভিড় সামাল দিতে পুলিশ ও আত্মীয়-স্বজনরা ব্যারিকেট তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী ও বরের নিকট আত্মীয় নাসির উদ্দিন জানান, বর হৃদয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি ইতালিতে থাকেন। বিয়ে করতে কিছুদিন আগে তিনি দেশে আসেন। তার শখ ছিল হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করবে। সেই শখ পূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন। এখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে হেলিকপ্টারে করে বর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন বিয়ে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।