সোমবার সকালে কোচিং থেকে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে নাফিস ইসলামের। জয়পুরহাট থেকে রওনা দিয়েছিলেন অটোরিকশায় করে। ক্ষেতলাল শহরে ঢোকার আগেই অটোরিকশাটির মাঝিপাড়া গ্রামে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাফিস। ক্ষেতলাল সাঈদ আলতাফুন্নেছা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন নাফিস ইসলাম।
নাফিসের বাবা রফিকুল ক্ষেতলালের ভাসিরা মোড় এলাকায় একটি ছোট ব্যবসা করেন। ব্যবসা করে কোনো রকম সংসার চালালেও ছেলের লেখাপড়ায় যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য তাকে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। জয়পুরহাট শহরের একটি মেসে থেকে প্রাইভেট কোচিং করতেন নাফিস। লেখাপাড়ায় বেশ ভালো ছিলেন তিনি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ক্ষেতলাল সাঈদ আলতাফুন্নেছা কলেজে ভর্তি হন তিনি। ভালো ফলাফল করার জন্য জয়পুরহাট থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তার মা ছেলেকে বাড়ি আসতে বলেছিলেন। অবশেষে আজ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি ফিরছিল নাফিস। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো তার প্রাণ।
.png)
নাফিসের বাবা রফিকুল জানান, শুধু ছেলের লেখাপাড়ার জন্য তিনি নিজে অনেক কষ্ট করেন। ছেলেকে কোনোদিন কষ্ট বা অভাব বুঝতে দেননি। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছিল নাফিসের। বাবারও স্বপ্ন ছিল ছেলেকে অনেক বড় কিছু বানাবেন। দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে নাফিস ছোট। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। তাই ছেলে নাফিসকে নিয়েই তাদের যত আশা-ভরসা। সড়ক দুর্ঘটনায় এক নিমিষেই সে আশা শেষ হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নাফিসসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরো চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।