দুর্ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিকটবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদীর মোহনা থেকে শহিদুলের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্পিডবোট দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছেন- ফরিদপুরের কোতয়ালী থানাধীন গুহলক্ষীপুর এলাকার শিরিশ হাওলাদারের ছেলে শুকুমার হালদার (৬৫), চরভদ্রাসন গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অযোধ্যা তেলিডাঙ্গী গ্রামের কুদ্দুস খন্দকারের ছেলে রানা খন্দকার (২২), ফরিদপুর সদরের হাট গোবিন্দপুর গ্রামের মো. কাইয়ুম আলী মৃধার ছেলে মো. দাউদ মৃধা (৩৮), সদরপুর উপজেলার সমশের মাতুব্বরের ডাঙ্গীর বাসিন্দা ছুরমান শেখের ছেলে খোকান শেখ (৪০), ফরিদপুর সদরের মুন্সী বাজার এলাকার জয় গোপাল গোস্বামীর ছেলে বলরাম গোস্বামী (৩৩) ও সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয় চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাজেল খাঁ'র ডাঙ্গী গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলামের (৩৮) মরদেহ।
.png)
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা কবির ত্রপার তত্ত্বাবধানে এ উদ্ধার অভিযানে গত তিনদিন ধরে কাজ করে ঢাকা, ফরিদপুর ও চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত শেষে নিজ স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার।
সে সময় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনাস্থলটি ঢাকার দোহারের ভেতর হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এখন মরদেহগুলো ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর সীমানা থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ মরদেহ উদ্ধারে ইউএনও, চরঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও নিহতের স্বজনেরা ডুবুরি দলের সঙ্গে সারাদিন পরিশ্রম করেছেন। সংশ্লিষ্ট ইউএনওর পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। প্রাথমিকভাবে মরদেহ দাফন কাফনের জন্য স্বজনদের ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে যদি কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকে তবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে, গত রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার দোহার ও ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বর্ডার এলাকার পদ্মা নদীতে দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হওয়ার পাশাপশি কয়েকজন আহত ও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হন।