মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কটিয়াদী উপজেলার মধ্য ভাট্টা এলাকার সিন্দু ভূঁইয়ার ছেলে মো. ফোরকান ভূঁইয়া, জমশেদ ভূঁইয়ার ছেলে মো. শাহেদ ভূঁইয়া এবং ধলু ভূঁইয়ার ছেলে মো. এ্যাংগু ভূঁইয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- একই এলাকার জমশেদ ভূঁইয়ার ছেলে মো. মোস্তফা ভূঁইয়া। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে অভিযুক্ত জমশেদ ভূঁইয়া মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে আগেই অব্যাহতি দেন আদালত।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রফিকুল ইসলাম রতন ভূঁইয়া ভাট্টা নতুন বাজার থেকে প্রতিবেশীর সঙ্গে গল্প করতে করতে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আসামি ফোরকান ভূঁইয়াসহ তার লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে দা, লাঠি, ছুরি, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে রতনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ফোরকান, জামশেদ, শাহেদ ও এ্যাংগু দা, চাপাতি দিয়ে রতনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। রতন মাটিতে পড়ে গেলেও লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন তারা। পরে রতনকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
.png)
রতন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার চাচাতো ভাই আনার ভূঁইয়া ৩০ আগস্ট কটিয়াদী মডেল থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করেন। রতনের মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে কটিয়াদী থানার তৎকালীন এসআই রাখাল দেবনাথ ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এ মামলার রায় দেন।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (ভারপ্রাপ্ত) জগেশ্বর রায় জানান, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।