এমন চিত্র বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত জেলা পরিষদ গ্রন্থাগারের। অনেকে এখনও কষ্ট করে সেখানে যাচ্ছেন! পছন্দ মতো বইয়ের সঙ্গে ধূলো নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা! তাদের বড় অংশই চাকরির পরীক্ষার্থী।
ওই গ্রন্থাগারে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর আসলেন এক বৃদ্ধ নারী। তার নাম রওশন আরা। তিনি গ্রন্থাগার দেখাশোনা করেন। অথচ তিনি সেখানকার কেউ নন! পাশের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করেন।বিনিময়ে কিছু টাকা পান। পাশাপাশি মাঝে মধ্যে গ্রন্থাগারেও রাখেন নজরদারি।
.png)
তিনি বলেন, এই গ্রন্থাগারে দায়িত্বে আছেন সুরভী। তিনি জরুরি কাজে বের হয়েছেন। তার অবর্তমানে আমি এখানে আছি। আর কিছু সময় পরই সুরভী আসবেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রন্থাগারে আগের মতো আর পাঠক আসেন না। আজ সকালে এক মেয়ে এসেছিলেন। তিনি কিছুটা সময় এখানে থেকে বই পড়েছেন। তবে ওই বইটি মেয়েটি নিজেই সঙ্গে করে এনেছিলেন।
বছর তিনেক আগেও অনেক পাঠক আসতেন এই পাঠাগারে। এখন আর এখানে পাঠক নেই বললেই চলে বলেন রওশন আরা।
শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষার্থী তৌফিক হাসান ও আরাফাত হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদে একটি পাঠাগার আছে, তা তারা আগে জানতেনই না! পাঠ্যবইয়ের বাইরে তারা কোনো বই পড়েন না। তবে এখন তারা পাঠাগারে গিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।
গ্রন্থাগারটি ঘুরে দেখা যায়, সেখানে একপাশে চারটি টেবিল আছে। টেবিলগুলো ঘিরে আছে ১৬টি চেয়ার। এই টেবিল-চেয়ারগুলো পরিষ্কার করা হয় মাঝে মধ্যেই। তা অবশ্য দেখেই বোঝা গেল। অন্যপাশে রয়েছে পাঁচটি হাই বেঞ্চ। সেই পাঁচ বেঞ্চের দুটিতে রয়েছে পাঁচটি চেয়ার। আর বাকি তিনটি হাই বেঞ্চে কোনো চেয়ার নেই। সেই বেঞ্চ-চেয়ারগুলো ধূলোর আস্তরণে ঢাকা। দীর্ঘদিন সেগুলো পরিস্কার করা হয়নি। আর যেখানে বইয়ের সেলফ রয়েছে, এর চারপাশ কাঁচের দরজায় (থাই গ্লাস) আবদ্ধ।
গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান নাসরিন পারভীন সুরভী মুঠোফোনে বলেন, গ্রন্থাগারে বর্তমানে ৭ হাজার ২০৫টির মতো বই আছে। পাঠকের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এখন দিনে ৫-৬ জন পাঠক আসেন। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকে।
তিনি আরো বলেন, আমি কখনও কোনো জরুরি কাজে বের হলে রওশন আরা নামের ওই নারী গ্রন্থাগারের থাকেন। তাকে দিয়ে গ্রন্থাগার পরিস্কারের কাজ করে নিই।
সিনিয়র শিক্ষক সাজেদুর রহমান সবুজ বলেন, বইয়ের পাঠক এখন ইন্টারনেটমুখী। ফলে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন আমাদের উচিত লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজড করে পাঠকের কাছে নিয়ে যাওয়া। আর লাইব্রেরিতে কর্তব্যরতদের আধুনিক জ্ঞানের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বই ও খেলাধূলা সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। একটি জাতি ততটা মেধাবী যতটা তারা বই পড়ে এবং জ্ঞান অর্জন করে। বই ও খেলাধূলা থেকে সরে গেলে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের একটি বড় অংশ।