বৃহস্পতিবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য দুই ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
শুক্রবার তাদেরকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নেত্রকোণা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়। সুনকুল চন্দ্র দাস ও নিপেন্দ্র চন্দ্র দাস নিহত বাবুল চন্দ্র দাসের চাচাতো ভাই ও মদন পৌর সদরের মদন দুপাপাড়া গ্রামের মৃত জয় চন্দ্র দাসের ছেলে।
.png)
জানা গেছে, বাবুল চন্দ্র দাসের বাবা হেম চন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর তার মা পুস্প রানী দাসের কাছ থেকে প্রতারণা করে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সলে ৭১ শতক জমি লিখে নিয়ে যায় নিপেন্দ্র দাসের বাবা জয় চন্দ্র দাস। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবুল চন্দ্র দাসের চাচাতো ভাই নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।
২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ডের আগে জমি বিরোধ মেটাতে বাবুলের বাড়িতে ২৩ ডিসেম্বর একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পুনরায় ৩০ ডিসেম্বর বৈঠকে বসে জমি জমা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের আগে রোববার রাত দোকান বন্ধ করে টাকার ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন বাবুল চন্দ্র দাস। বাড়ির পাশে মদন হরি মন্দির থেকে ২০০ গজ দূরে পৌঁছালে পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় বাবুল দাস হরি মন্দিরের কাছে গিয়ে লুটিয়ে পড়ে। মন্দিরে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ২৭ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী চম্পা রানী দাস অজ্ঞাতনামা আসামি করে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আজিজুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিপেন্দ্র ও সুনকুল চন্দ্র দাসকে থানায় নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেন। শুক্রবার দুপুরে তাদের নেত্রকোণা কোর্ট হাজতে পেরণ করা হয়।
মদন থানার ওসি মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান জানান, বাবুল দাস হত্যা মামলায় নিপেন্দ্র ও সুনকুল চন্দ্র দাস নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।