হত্যার পর নিজের গাড়িতেই লাশ নিয়ে ঘুরলেন মালিক
নাটোরের বড়াইগ্রামে সচিবালয়ের স্টিকারযুক্ত একটি জিপ থেকে হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের গলায় রশির দাগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জিপের মালিক নিজেই হত্যার পর লাশ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে ঐ উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড় থেকে লাশ ও জিপসহ মালিককে আটক করা হয়।
আটককৃত মিজান শেখ মাগুরার শেরপুরের গোলাম হায়দারের ছেলে। ঐ ব্যক্তিকে নিজেই হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।
নিহত হযরত আলীর বাড়ি রংপুরে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় তাজ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি জুট গোডাউনের কর্মচারী ছিলেন।
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে অভিযান চালিয়ে সচিবালয়ের স্টিকারযুক্ত জিপটি পাওয়া যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে জিপের পেছনে হাত-পা বাঁধা লাশটি পাওয়া যায়।
তিনি আরো জানান, মিজানই ঐ জিপের মালিক ও চালক। তার আশুলিয়ায় একটি জুট গোডাউন ও জুট থেকে বিভিন্ন জিনিস তৈরির কারখানা রয়েছে। নিহত হযরত ঐ কারখানায় চাকরি করতেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে গত ২০ মার্চ হযরতকে চড়-থাপ্পড় মারেন মিজান। পরদিন হযরতকে নিজের বাড়িতে নিয়েও মারধর করেন। ঐ সময় হযরতের মৃত্যু হয়। এরপর হযরতের লাশ নিজের জিপে নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে নাটোরের লালপুরে যান মিজান। মঙ্গলবার সকালে লাশটি নিয়ে হাইওয়েতে উঠলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাশসহ জিপ উদ্ধার ও মিজনকে আটক করা হয়।
মামলা বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক রাশেদুল জানান, কাশিমপুর থানায় খবর দেওয়া হয়েছে। তারা পৌঁছালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।