বড় ভাইয়ের প্রেমিকাকে নিয়ে সাগর পাড়ি, পাহাড় ঘুরেও হয়নি রক্ষা
ফয়সাল ও ফরহাদ দুই ভাই। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ফয়সালের। বড় ভাই ফয়সালের কথামতো তার প্রেমিকাকে সাগর পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন ছোট ভাই ফরহাদ। কথা ছিল চট্টগ্রামে আসার পর ওই কিশোরীকে বিয়ে করবেন ফয়সাল। কিন্তু এর আগেই অপহরণ মামলায় ফয়সাল ধরা পড়েন পুলিশের হাতে।
এদিকে, বড় ভাইয়ের প্রেমিকাকে নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ফরহাদ। এরই মধ্যে নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে এক কথিত কাজির সহায়তায় করেন বিয়ে। তবে রক্ষা হয়নি ফরহাদেরও। অপহরণ মামলায় তিনিও ধরা পড়েছেন র্যাবের হাতে। উদ্ধার করা হয়েছে ভুক্তভোগী কিশোরীকে।
রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, শনিবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কানন আবাসিক এলাকা থেকে ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ফরহাদ সন্দ্বীপের মুছাপুর এলাকার মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
র্যাব জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিন নিতে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ওই কিশোরী। কিন্তু সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে জানা যায়- তাকে বিয়ের আশ্বাসে অপহরণ করে নিয়ে যান ফরহাদ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা সন্দ্বীপ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেফতারে নজরদারি শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার কানন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফরহাদকে গ্রেফতার ও ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার জানান, অপহরণের ঘটনায় সন্দ্বীপ থানা পুলিশের হাতে ফয়সাল গ্রেফতার হলে ভুক্তভোগীকে ফিরিয়ে দিতে ফরহাদের কাছে অনুরোধ জানায় তার পরিবার। কিন্তু ফরহাদ তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে প্রথমে হাটহাজারী আদর্শগ্রামের পাশে পাহাড়ি সন্দ্বীপপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে সলিমপুর ছিন্নমূল এলাকার এক কথিত কাজির সহায়তায় বিয়ে করেন।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অসৎ উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেন ফরহাদ। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সন্দ্বীপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার।