রশি টানাটানিতে হয়নি সেতু
দুই দফতরের রশি টানাটানিতে ভেঙে যাওয়ার তিন বছর পরও সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মাদারীপুর ও ফরিদপুরের হাজারো মানুষ।
জানা গেছে, জেলার শিবচর উপজেলার সন্নাসীরচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দ মাদবরেরকান্দি গ্রামে একটি সেতু ছিল। সেতুটি ১৯৯৫ সালের শুরুর দিকে এলজিইডির সড়ক নির্মাণের সময় করা হয়। সেতুটি ব্যবহার করতেন সন্নাসীরচর ইউনিয়ন ও পাশের ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার হাজারো মানুষ। কিন্তু ২০১৮ সালের বন্যায় সড়কের কিছু অংশসহ সেতুটি ভেঙে পড়ে।
এরপর একটি বাঁশের সাঁকো বানিয়ে পারাপার হচ্ছিল এলাকাবাসী। কিন্তু গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনের জন্য বাঁশের ওপরে কাঠের তক্তার মাচা বসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও শিবচরের পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ড থেকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার শিমুলতলী পর্যন্ত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালিয়ে পার হওয়া যায় না। এতে তিন বছর ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরনাসিরপুর ইউনিয়ন থেকে আসা হালিম হাওলাদার বলেন, আমরা ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার মানুষ হলেও সহজে যাতায়াত করার জন্য শিবচরের পাঁচ্চর হয়ে ঢাকা যাই। কিন্তু তিন বছর ধরে গোবিন্দমাদবরের কান্দি গ্রামের সেতুটি ভাঙা রয়েছে। তাই সরাসরি গাড়িতে চলাচল করতে পারি না। এতে অনেক সমস্যায় পড়ি।

ফরিদপুরের সদরপুরের বাসিন্দা ইউনুস ব্যাপারী বলেন, আমি ঢাকা থেকে পাঁচ্চর নেমে সন্নাসীরচর ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে সদরপুরে যাচ্ছি। কিন্তু গত তিন বছর ধরে গোবিন্দ মাদবরেরকান্দি গ্রামের ছোট্ট সেতুটি না থাকায় মালামাল নিয়ে পার হতে কষ্ট হয়। এখানে সেতুটি নির্মাণ হলে আমাদের সবার জন্য ভালো হতো।
সন্নাসীর চর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, আমি আমার এলাকার এ সেতুটি নির্মাণ করার জন্য উপজেলা এলজিইডি অফিসে কয়েকবার গিয়েছি। আবার পিআইও অফিসেও খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। দুই বছর হয়ে গেলেও সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে না। এ সেতুটি দুটি জেলার মানুষের যাতায়াতের একটি মাধ্যম। আমি দাবি করছি, দ্রুত সেতুটি যেন নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
এদিকে, শিবচর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সড়কটি আমাদের হলেও সেতুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে বলে জেনেছি। বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ওই এলাকার সড়কটি উপজেলা এলজিইডি নির্মাণ করে। তাই ওই সেতুটিও তাদেরই করার কথা। তবে উপজেলা এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ না করলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে। যদি সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তাহলে করা হবে।