ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কয়লা সংকটে বেড়েছে ঘর নির্মাণ ব্যয়

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৬:১০, ১ জানুয়ারি ২০২২
কয়লা সংকটে বেড়েছে ঘর নির্মাণ ব্যয়
কয়লা: ফাইল ফটো

কয়লার আমদানি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ইট উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান সামগ্রী ইটের প্রকারভেদ অনুযায়ী দাম বেড়েছে প্রতি হাজারে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল মাটি সংকটে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ইটভাটা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়েছে নির্মাণ মৌসুম। বগুড়ায় বর্তমানে পুরোদমে চলছে অবকাঠামো নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় ইটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তবে বিনিয়োগের তুলনায় দাম বাড়ানো হয়নি। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে ইটভাটা মালিকরা প্রতি টন কয়লা ৮০০০ থেকে ৯০০০ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু  চলতি মৌসুমে  (গত বছরের অক্টোবর মাস) করোনা পরিস্থিতিতে ইট পুড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কয়লা আমদানিতে সংকটের সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় বাজারে প্রতি টন কয়লার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকায়। ফলে ইটের দাম বাড়ানো হয়েছে।

গত মৌসুমে উন্নতমানের ইট প্রতি হাজার বিক্রি হয়েছে ৮৫০০-৯০০০ টাকায়। বর্তমান মৌসুমে একই পরিমাণ ইট বিক্রি হচ্ছে ১১ হাজার টাকায়। একই পরিমাণ দ্বিতীয় সারির ইটের দাম ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার টাকায়। নিম্নমানের ইটের (তিন নম্বর) দামও বেড়ে গেছে। এই ইট গতবার ৬ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম বেড়ে একই পরিমাণ ইটের দাম হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, সিমেন্ট তৈরিতেও কয়লা ব্যবহার করা হয়। ঘর নির্মাণ সামগ্রী সিমেন্ট উৎপাদনেও ব্যয় বেড়েছে। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝমাঝিতে সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে ঘর নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে এবং আরো বৃদ্ধি পাবে শিগগিরই।

বগুড়া ফুলদিঘী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল। পাঁচতলার ফাউন্ডেশন দিয়ে ২০১৫ সালে দুই তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। বর্তমানে পাঁচতলা ভবন সম্পূর্ণ করার কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইটসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় শুরু করতে পারেননি নির্মাণ কাজ।

মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় ইটের দাম বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েই চলেছে। গেল বছরের (২০২১) ডিসেম্বর মাসের শুরুতে বাড়ির কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইটসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে কাজ শুরু করেননি।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী এলাকার এমবিএফ ইটভাটার মালিক আহসান রবিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় ইটভাটায় বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল মাটি চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দুই দিক থেকেই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, কয়লা আমদানি সংকটে ইট তৈরিতে উৎপাদন খরচ যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সেভাবে দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। চলতি মৌসুমে লোকসানের মুখ দেখতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বগুড়া ইটভাটা মালিক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শাহীন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি সংকটে কয়লার দাম বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত দামেই কয়লা কিনতে হচ্ছে। ফলে ইট উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে ইটভাটায় বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। উৎপাদনের খরচের ওপর নির্ভর করে ইট বিক্রি করতে হয়। একারণে ইটের দামও বাড়ানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!