স্কুলে পরীক্ষার ফল জানতে গিয়ে নিখোঁজ দুই ছাত্র
বগুড়ায় ছয়দিন ধরে দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। ঐ দুজন সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। এরমধ্যে নিখোঁজ দুজনের এক অভিভাবককে ইমো নম্বর থেকে পাঠানো ভয়েস ম্যাসেজে বলা হয়েছে ছেলে দুটোকে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তবে তাদের (অজ্ঞাত) সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম তারা বলেননি। অভিভাবকরা অপেক্ষা করছেন আবার কখন অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তি তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করবেন এমন আশায়।
নিখোঁজ দুজন হলো- বগুড়া শহরের আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র জুলকার নাইন এবং বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার সোলাগাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাফিউল ইসলাম।
জুলকার নাইন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দা। আর রাফিউল শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের সোলাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। জুলকার নাইনের বাড়ি গোবিন্দগঞ্জে হলেও তাদের দুটি গ্রাম পাশাপাশি অবস্থিত।
তাদের নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার শিবগঞ্জ থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ দুটি করেন জুলকার নাইনের বাবা জহুরুল ইসলাম ও রাফিউলের নানা সেকেন্দার আলী। ঐ দুজন গত ২২ ডিসেম্বর (বুধবার) থেকে নিখোঁজ রয়েছে।
আরো পড়ুন: রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোই তার নেশা
জুলকার নাইনের মামা ও রাফিউলের ভাই আবু ইউসুফ। তাকে সোমবার রাতে এক ইমো নম্বর থেকে ভয়েস ম্যাজেস পাঠানো হয়। ম্যাসেজে তাকে বলা হয় ‘ছেলে দুটিকে ফেরত চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
ইউসুফ জানান, ভয়েস ম্যাসেজ দেওয়ার পর ইমোতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়। তিনি (অজ্ঞাত) জানান আজ (মঙ্গলবার) তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
তিনি আরও জানান, গত ২২ ডিসেম্বর রাফিউলের বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন ছিল। ঐদিন রাফিউল ভাগ্নে জুলকার নাইনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তবে তারা বিদ্যালয় থেকে ফলাফলও উঠিয়েছে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাফিউলের বার্ষিক ফলাফলও ভালো। আর বাড়িতে কারো ওপর তাদের কোনো অভিমান নেই।
ইউসুফ জানান, জুলকার নাইন ও ইউসুফ নিজে থেকে কোথাও যেতে পারে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি তাদের বিষয় নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বর্তমানে অপেক্ষা করছেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ফোনের আশায়। কারণ তাদের ফোনেই হয়ত নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাওয়া যাবে।
জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ দুজনকে খুঁজে বের করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করছি শিগগিরই তাদের সন্ধান বের করতে পারবো।