প্রেমিকাকে অন্তঃসত্ত্বা করে পালালেন প্রেমিক, সন্তান নষ্টে গাড়িচাপ
বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে এক তরুণী। টাকার বিনিময়ে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাজি না হওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোণার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, শিবপাশা গ্রামের শামীম চৌধুরীর ছেলে সাব্বির চৌধুরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ঐ তরুণীর। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ঐ তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সাব্বির। একপর্যায়ে তরুণীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে বিষয়টি নজরে আসে তরুণীর পরিবারের লোকজনের। পরে পরিবারের লোকজন ডাক্তারি পরীক্ষা করে জানতে পারেন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঐ তরুণী। এ ঘটনা সাব্বিরের পরিবারের লোকজনকে জানালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সাব্বির। ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সাব্বিরের পরিবারের লোকজন। ঐ তরুণীকে হত্যার হুমকিসহ গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সাব্বির। বর্তমানে আমি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য সাব্বির ও তার পরিবারের লোকজন চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কিছু বলতে পারতেছি না। আমি এর বিচার চাই।
ভুক্তভোগী তরুণীর মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সাব্বিরের পরিবার প্রভাবশালী। আমার মেয়েটাকে ধর্ষণ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টগুলো তারা নিয়ে যেতে চায়। ৩-৪ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এতে রাজি না হলে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে সাব্বিরের দাদা মুজিবুর চৌধুরী। আমি এ বিষয়ে থানায় মামলা করার চেষ্টা করছি।
সাব্বিরের বাবা শামীম চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর আমার ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধান করার জন্য আমার চাচা মুজিবুর চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়েটির গর্ভে যে সন্তান রয়েছে তা আমার ছেলে সাব্বিরের না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব্বিরের দাদা মুজিবুর চৌধুরী বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। শুনেছি মেয়েটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ছেলে পক্ষ টাকা পয়সা দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করতে চায়। মেয়েটিকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।