মেয়েকে নিয়ে গোয়াল ঘরে থাকা মকবুলের জন্য নির্মিত হচ্ছে বাড়ি
বরগুনার বেতাগীতে মেয়েকে নিয়ে গোয়াল ঘরে থাকা মকবুল হাওলাদারের জন্য নির্মিত হচ্ছে পাকা টেনশেড বাড়ি। পাকা বাড়িতে একটি থাকার ঘর সহ রয়েছে একটি বারান্দা। বাড়ির পাশে নির্মাণ হচ্ছে আলাদা রান্নাঘর ও টয়লেট। বেতাগী পৌরসভার মেয়র এবিএম গোলাম কবির ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় ঘরহীন মকবুলকে এসব নির্মাণ করে দিচ্ছেন।
জানা যায়, ডেইলি বাংলাদেশে ‘কনকনে শীতে গোয়ালঘরে বাবা-মেয়ের মানবতার জীবনযাপন’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হলে বিষয়টি বেতাগী পৌর মেয়রের নজরে আসে। এরপর তিনি অসহায় বৃদ্ধ বাড়ি গিয়ে তার খোঁজ খবর নেন। চিকিৎসার জনয মকবুলকে হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি তাতে শীতের কাপড় ও নগদ অর্থ দেন। পাশাপাশি দ্রুতই একটি ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।
তবে পৌর মেয়রের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থাও অসহায় মকবুলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। মকবুল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমদের স্ত্রী (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মির্জা দরিদ্র মকবুল হাওলাদারকে একটি ঘর তুলে দেবার ঘোষণা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিডিয়া পাবলিক রিলেশন পুলিশ হেডকোয়ার্টার এর এআইজি মো. কামরুজ্জামান বলেন, সভানেত্রী জীশান মির্জার নজরে সংবাদটি আসলে তিনি খুব কষ্ট পান। বৃদ্ধ খুব মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যত দ্রুত সম্ভব তাকে একটি বসবাসের উপযোগী ঘর করে দিতে হবে।
বেতাগী পৌর এবিএম গোলাম কবির বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অসহায় বৃদ্ধ এবং তার মেয়ের মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানতে পারি। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে তাই তার বাড়ি যাই। এ সময় তাদের নগদ কিছু অর্থ এবং শীতের পোশাকের দিয়ে সাহায্য করি। পাশাপাশি তাদের জন্য দ্রুত একটি বাড়ি নির্মাণের জন্য মালামাল পাঠাই। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

জানা যায়, মকবুল হাওলাদারের বাড়ি বেতাগী উপজেলার সদর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলবুনিয়া গ্রামে। ছোট মেয়ে মিমের বয়স যখন ছয় বছর তখন তার স্ত্রী মারা যায়। অভাবের সংসারে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে যেয়ে হাতে বই তুলে দিতে পারেননি মকবুল। পেটের টানে চার ছেলে অনেক আগেই পাড়ি জমায় ঢাকায়। দারিদ্র্যের ঘূর্ণিপাকে বাস করা মকবুলের বসতঘরটি গত বর্ষায় ভেঙে যায়। সেই থেকে প্রতিবেশী খালেক হাওলাদারের গোয়াল ঘরে ঠাঁই হয় বাবা মেয়ের। গোয়াল ঘরের একপাশে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়, অন্যপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ি-পাতিল। এসব নিয়েই কাটছে তার শেষ বয়সের সংসার।

স্থানীয়রা জানান, মকবুলের ছেলেরা তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। দারিদ্র্যতার কারণে তাই রোগা শরীর নিয়ে লাঠি এবং মেয়ের কাধে ভর দিয়ে পেটের তাগিদে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন তিনি। মানুষের কাছে হাত পেতে যদি কিছু জোটে তা দিয়েই বাবা মেয়ের পেট চলে। কিন্তু যেদিন শরীর ভাল থাকে না, সেদিন মকবুল গ্রামেও বের হতে পারে না। উপোস থাকতে হয় বাবা মেয়েকে।
কান্না ভেজা চোখে মকবুল বলেন, ‘মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এই শীতে রাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারি নি। তবে মেয়র গোলাম কবির নগদ অর্থ আর কম্বল দিয়ে সাহায্য করেছেন। একটা বাড়ি বানিয়ে দিবে বলেও কথা দিয়েছে। আল্লাহ তাকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুক।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, বৃদ্ধ মকবুল তার এই ছোট মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জমি দান করার মতো কেউ না থাকায় মকবুলকে মুজিব বর্ষের ঘরের তালিকায় নাম দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মেয়র মানবিক কারণে মকবুলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই।