চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় মোফাসসিল নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
শনিবার ভোরে মেড্ডার তিতাস নদীর পাড়ে গাছের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন মোফাসসিল। তিনি পেশায় একজন সিএনজি চালক।
দীর্ঘদিন যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মোফাসসিল। মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট লিখে গেছেন তিনি।
মোফাসসিলের মা চাঁন বানু জানান, বছর দুয়েক আগে মেড্ডার হেলিম মিয়ার মেয়ে মিলির সঙ্গে মোফাসসিলের বিয়ে হয়। পরে মিলির পরিবারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আধা কেজি চাউল ও অল্প পরিমাণে অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। বিষয়টিকে অপমানের চোখে দেখেন মোফাসসিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিয়ের প্রায় দুই বছর পর তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু স্ত্রী মিলির প্রতি ভালোবাসা কমেনি মোফাসসিলের। এ নিয়ে সে প্রায়ই বিষণ্ণ থাকতো। শেষমেশ সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
মোফাসসিলের লিখে যাওয়া চিরকুটের কিছু লিখা ছিল- ‘জানো মিলি, তুমি ছাড়া আমাকে বোঝার মতো আর কেউ ছিল না। তুমি আমার ভালোবাসা বুঝেও বুঝলে না। কোনো একদিন আমার ভালোবাসা বুঝবে, সেদিন খুঁজলেও পাবে না। পৃথিবীতে কেউ কাউকে ঠকিয়ে কোনদিন জিততে পারেনি, তুমিও পারবে না। কারও মনে কষ্ট দিয়ে কেউ কোনদিন সুখী হতে পারেনি, তুমিও পারবে না। কোনদিন ভাবিনি ছেড়ে চলে যাবে আমায়।’
চিঠির আরেক পৃষ্ঠায় মোফাসসিল লিখেন, ‘স্বার্থপর পৃথিবীতে টাকাই সব। সব হারিয়েছি টাকার জন্য, হারিয়েছি তোমাকেও। ও যেতে চায়নি, ওকে বাধ্য করেছে ওর মা-বাবা ও বড় বোন।’
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ।