ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হলুদ বরণে সেজেছে প্রকৃতি

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর 
প্রকাশিত: ২১:৪৩, ২ ডিসেম্বর ২০২১
হলুদ বরণে সেজেছে প্রকৃতি
জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠে দেখা যায় সরিষা ক্ষেতের অপরূপ দৃশ্য (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

শিশির ভেজা সকালে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠজুড়ে কেবল সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য। দেখে মনে হয় হলুদ বরণে সেজেছে প্রকৃতি কন্যা।

এমনি চিত্র দেখা যায় জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায়। চারপাশে শুধু সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠগুলো।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেশি হয়। অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। 

মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক নুর আমিন জানান, দেশীয় সরিষার জাতগুলোর চেয়ে উন্নত জাতগুলো ফলন বেশি হয়। গত বছরর চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি লাভও ভালোই পাওয়া যাবো। আমি ৫বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালা থাকলে ফসল ঘরে তুলতে পারবো।

ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইনদুল্লাবাড়ী গ্রামের কৃষক প্রামানিক জানান, সরিষা চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি। এক মণ সরিষার দাম ২ হাজার টাকা। সরিষার মানসম্মত তেলের চাহিদাও বাড়ছে। তাছাড়া অব্যাহত ধান আবাদে জমির উর্বরতা কমে যায়। সরিষা আবাদে জমিতে সরিষার পাতা পড়ে তা পচার পর জমির উর্বরতা বাড়ে। এসব কারণে কৃষকরা সরিষার চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর ২২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ৪শ হেক্টর। গত বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ হাজার হেক্টর, অর্জিত হয়েছিল ২২ হাজার ৫শ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার চাষ বেশি হয়েছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নিতায় চন্দ্র বণিক জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে। তবে এ সময় যদি একটা হালকা বৃষ্টি হতো তাহলে ফলন আরো ভালো হতো। অনেক কৃষক সরিষা জমিতে সেচ দিচ্ছে। 

এবার কৃষকরা বাড়তি মুনাফা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএডি/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!