কমলগঞ্জে প্রতিবন্ধীসহ দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একদিনে দুই ইউনিয়নে বাকপ্রতিবন্ধী নারী ও এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছাতকছড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অপরদিকে, একই রাতে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কেয়ালীঘাট এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ নিয়ে কান্দিগাঁও গ্রামে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন মেয়ের স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় মেয়ের বাবাকে ফাঁসাতে নাটক সাজানো হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূর শ্বাশুড়ি মুঠোফোনে জানান, তার পুত্রবধূর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। সে দীর্ঘদিন থেকে তার মায়ের বাড়িতেই অবস্থান করছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে কান্দিগাঁও গ্রামের ভিকটিমের খালাতো ভাইসহ আরো কয়েকজন জানান, গ্রামে এরকম কোনো ঘটনার খবর কেউ জানেন না। এরকম একটি ঘটনা ঘটবে আর কেউ জানবে না সেটা কীভাবে সম্ভব।
তবে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই গৃহবধূ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার সাজেদুল কবীর বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এক সন্তানের জননীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিকেল চেকাপের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল শহীদুল হক মুন্সির নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান, এসআই ফজলে এলাহী, সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল রাত পৌনে ১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ভিকটিমের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, একটি বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি আরো জানান, আদমপুর ইউনিয়নে ধর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ভিকটিমের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার কোনো সত্যতা মেলেনি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।