ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ট্রাকের ধাক্কায় মেয়ের সামনেই ঝরল মায়ের প্রাণ

হলো না ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসা
সুজন সেন, শেরপুর
প্রকাশিত: ১৬:১০, ৩১ জানুয়ারি ২০২১
ট্রাকের ধাক্কায় মেয়ের সামনেই ঝরল মায়ের প্রাণ
আহাজারি করছেন স্বজনরা ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা

একমাত্র মেয়ে রুমি খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন তার মা রুকসানা। রোববার সকালে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর শহরে যাচ্ছিলেন তার মা। কিন্তু তাদের পৌঁছানো হলো না শহরে। তার আগেই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক মুহূর্তেই সবকিছু তছনছ করে দেয়। মেয়ের একমাত্র ভরসাস্থল মাকে কেড়ে নেয় তার বুক থেকে। মেয়ের চোখের সামনেই মা হলেন রক্তাক্ত লাশ।

মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় রুকসানা ও এক দম্পতিসহ নিহত হন চারজন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তবে ভাগ্যক্রমে শিশু কন্যা রুমি খাতুন বেঁচে গেলেও মরণ যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বিছানায়।

নিহতরা হলেন- রুকসানা, সেলিম, ময়না ও জবেদ আলী। এরমধ্যে সেলিম ও ময়না সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। জবেদ আলী ছিলেন সিএনজি চালক। আহত এবং নিহতদের সবার বাড়ি জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

রুকসানার বাবা কৃষক মোহাম্মদ আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার নাতনি রুমি দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই নাতনির চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে শেরপুরে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতেন তার মা। সকালে চিকিৎসার বিষয়ে শেরপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান তার মেয়ে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে শেরপুর শহরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের মির্জাপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির তিন যাত্রী নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরো একজন। গুরুতর আহত দুইজন বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার নুপুর ভৌমিক জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ-আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ট্রাকটি হেফাজতে নেয়া হলেও চালক পালিয়ে গেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!