ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চিকিৎসা করাতে না পেরে শান্তকে বেঁধে রেখেছে বাবা-মা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১১, ৩০ জানুয়ারি ২০২১
চিকিৎসা করাতে না পেরে শান্তকে বেঁধে রেখেছে বাবা-মা
শান্ত হোসেন

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শান্ত হোসেন। তার বয়স ১০ বছর। দিনমজুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না তার পরিবার। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তর চিকিৎসা। এমন দুঃখ-দুর্দশার অবস্থায় ছেলের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন শান্তর মা সীমা খাতুন।

শান্ত হোসেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। তারা তিন ভাই। সবার বড় শান্ত। জন্মের পর তিন বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। এরপর থেকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে।

সীমা খাতুন বলেন,  প্রায় ৭ বছর আমার ছেলের এই সমস্যা। বর্তমানে চিকিৎসা বন্ধ। ওষুধ কেনার টাকা আমাদের নাই। টাকার অভাবে শান্তর চিকিৎসা থমকে গেছে। ফলে দিনদিন সমস্যা আরো বেড়েই চলেছে। বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে চিকিৎসা সম্ভব হবে। আমরা খুবই গরীব। আপনারা সহযোগিতা করুন। আপনারা আমার ছেলেকে বাচাঁন।

জানা গেছে, শান্ত ভালোভাবে হাঁটতে পারে না। অন্যের ঘরে ঢিল ছোঁড়ে, অন্য ছেলেদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, মারধর করে। অন্যের বাড়ির ভাত-তরকারি খেয়ে ফেলে। এজন্য শান্তকে সবসময় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ৭ বছর ধরে দিন-রাত সে ঘরের সঙ্গে বাঁধা থাকে।

পরিবারের লোকজন সাত বছর আগে জানতে পারে শান্ত মানসিক ভারসাম্যহীন। কুষ্টিয়া পাবনা সহ বিভিন্ন জায়গায় ছেলের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা জসিম উদ্দিন। বর্তমানে তার চিকিৎসা বন্ধ। কিন্তু দিনে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয়। এই উপার্জনের অর্থে পাঁচজন সদস্যের পরিবার খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করে। চিকিৎসারা নিয়মিত তার চিকিৎসা চালাতে বলেছেন। সে জন্য দরকার টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় না হওয়াতে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না ভূমিহীন দিনমজুর পিতা জসিম উদ্দিন। এমতাবস্থায় চিকিৎসা চালাবে কিভাবে?  

প্রতিবেশী ছমিরুল ইসলাম বলেন, শান্তর বাপের যদি অর্থ-সম্পদ থাকত, তাহলে চিকিৎসা করাতে পারতো। ঘরদোর ভাঙা, ঘর দিয়ে পানি পড়ে। বর্ষাকালে ঘরে থাকতেই পারে না। সে ছেলের চিকিৎসা করাবে কিভাবে? প্রশাসন ও বিত্তবানদের সহযোগিতাই পারে শান্তকে সুস্থ করে তুলতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটির ঘরের বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছে শান্ত হোসেন। কখনো বাঁ-হাত, কখনো ডান হাত দিয়ে খাচ্ছে। ১০ বছর বয়সী ছেলেটির বাম পা ঘরের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। কথা বলতে গেলে শান্ত বলে, কষ্ট, শরীল ভালো না। ভাত খাবো।

শান্ত হোসেনের মা সীমা খাতুন বলেন, দুইবার প্রতিবন্ধী ভাতা পাইছিল। দীর্ঘ ৮-৯ মাস আর পায়নি। একটা প্রতিবন্ধী কার্ড থাকার কথা, কিন্তু আমার ছেলের সেটা নাই। ভাতার টাকা পাওয়া গেলেও কিছুটা চিকিৎসা চালাতে পারতাম। অনেকবার মেম্বার-চেয়ারম্যানদের কাছে গিয়েছি।

শান্তর বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, সাত বছর ধরে আমার ছেলের মাথায় সমস্যা। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। আমি দিনমজুর। দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করি। সেই টাকায় ঠিকমতো সংসারই চলে না। চিকিৎসা করাব কি দিয়ে?  আমার ছেলেকে বাঁচতে চাই, আমাদের সহযোগিতা করুন।

ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে সহায়তা করা হবে। আগামীতে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার চেষ্টা করব।

মিরপুরের ইউএনও লিংকন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি খুব কষ্টের। আমরা তাকে সহযোগিতা করব। আগামী পর্বে তার প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেয়া হবে। তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শান্ত হোসেনের চিকিৎসায় বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার। শান্তর বাবা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর- ০১৯২৩০৭৪৭০৭।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!