ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩১, ১৬ নভেম্বর ২০২০
স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা
অভিযুক্ত পিতা আল-আমিন গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক বছর বয়সী কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি বাবা আল-আমিনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আল-আমিন উপজেলার চান্দহর ইউপির ফতেপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।

রোববার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর-পাড়াগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে ‌আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস‌আই ফরহাদুজ্জামান ভূইয়া।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর পাড় থেকে হাত-পা ছাড়া শিশু মীম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মরদেহ মীম আক্তারের কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আদালতের নির্দেশে রোববার দুপুরে কবরস্থান থেকে মরদেহ তোলা হয়। পরে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি) পাঠানো হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক কলহের জেরে গত ৩ নভেম্বর স্ত্রী হোসনে আরাকে মারধর করে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী আল-আমিন। পরে এক বছর বয়সী শিশু সন্তান মীম আক্তারকে নিয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও স্বামী সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় ৪ নভেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন হোসনে আরা। ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালিগঙ্গা নদীর পাড় থেকে হাত-পা ছাড়াই ওই শিশুর লাশ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় ওই দিনই স্বামী আল-আমিন, তার পিতা আ. হালিম, মা নাছিমা বেগমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন শিশুটির মা হোসনে আরা বেগম। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আল-আমিনের ভাই আজিজুল, বোন মুক্তা আক্তার ও স্বজন ছাবিনা আক্তার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরহাদুজ্জামান ভূইয়া জানান, ঘটনার পর থেকেই নিহত শিশুর পিতা আল-আমিনসহ মামলার অন্য আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গত ১৩ নভেম্বর প্রথমে নিহত শিশুটির চাচা আজিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। 

রোববার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর-পাড়াগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি পিতা আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজ সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!