ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ক্লাস ফাঁকি দেয়ায় মাদরাসাছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্মম নির্যাতন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৪২, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
ক্লাস ফাঁকি দেয়ায় মাদরাসাছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্মম নির্যাতন
শিশুকে নির্যাতন (প্রতীকী ছবি)

এক মাদরাসাছাত্রকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করার অভিযোগে স্থানীয় একটি মাদরাসার বড় হুজুরকে (শিক্ষক) আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে শিশুটির মা তার সন্তানকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে অত্যাচার করার অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানায় মামলা দায়ের করে। 

আরো পড়ুন: বিস্কুট-ডিম খাওয়ায় শিশুকে রড দিয়ে পেটাল বেকারি মালিক

চৌহালী উপজেলার কুরকি মধ্য পাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী বন্যা খাতুন অভিযোগ করে জানান, তার আট বছরের শিশু সন্তান মিরাজুল ইসলাম কুরকি মদিনাতুল উলুম নূরানিয়া হাফিজিয়া ও মহিলা মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিন তার ছেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যায় এবং ৫টায় ফিরে আসে। কিন্তু সোমবার বিকেলে তার ছেলে মিরাজুল ইসলাম বাড়ি ফিরে না আসায় তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মাদরাসায় গিয়ে জানতে পারেন তার ছেলেকে একটি ক্লাসরুমের মধ্যে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে একটি খুঁটির সঙ্গে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। 

তিনি খোঁজ নিয়ে আরো জানতে পারেন, মাদরাসার বড় হুজুর মোহাম্মদ ইয়াসিন হাবিব তার ছেলেকে পায়ে শিকল পরিয়ে এভাবে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। এ সময় তিনি মাদরাসায় বড় হুজুরের খোঁজ করলেও তাকে খুঁজে পাননি। তাকে জানানো হয় বড় হুজুর ইয়াসিন হাবিব চাবি নিয়ে বাইরে চলে গেছেন। এ সময় বন্যা খাতুন বাধ্য হয়ে খুঁটি থেকে শিকল খুলে তালা এবং শিকলবন্দি অবস্থায় তার ছেলেকে বাড়ি নিয়ে আসেন। এরপর তিনি লোক ডেকে তার সন্তানের শিকল এবং তালা খুলে ফেলেন। 

আরো পড়ুন: জট খুলল সৌদি প্রবাসী হত্যার রহস্য, নেপথ্যে সমকামিতা

বন্যা খাতুন জানান, এ ঘটনার পর থেকেই তার শিশু সন্তান মানুষ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। রাতে তার স্বামী মনিরুল ইসলাম বাড়ি ফিরলে তিনি ঘটনাটি তাকে জানান। এরপর রাতেই তারা চৌহালী থানায় এসে মাদরাসার বড় হুজুর ইয়াসিন হাবিবকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। মাদরাসার ক্লাস ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে এই শিশুটিকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!