ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কালাইয়ে বিদেশি তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩১, ৩১ আগস্ট ২০২০
কালাইয়ে বিদেশি তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাজারে সাধারণত দেখা মেলে সবুজ বা গাঢ় সবুজ বর্ণের তরমুজ। কিন্তু ব্যতিক্রমী হলুদ বর্ণের বিদেশি গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বর্গা চাষি এনামুল হক। 

উপজেলায় এই প্রথম বড় পরিসরে নতুন এ জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেছেন তিনি। এনামুল হক ৩৩ শতক জমি বর্গা নিয়ে নিজস্ব উদ্দ্যোগে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন। 

বর্তমান তার কাঙ্খিত ছোট-বড় কয়েকশ’ তরমুজ মাচায়, গাছের ডগায় ঝুলেছে। রং, স্বাদ, দেখতে আকর্ষণীয় ও লাভজনক হওয়ায় এ জাতের তরমুজ দেখতে খেতে ভিড় করেন অনেকে। বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত ও ধান-আলুর উৎপাদনের জন্য জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পরিচিতি প্রাচীনকাল থেকেই তবে নতুন করে এই তরমুজ চাষের সফলতায় অনেক কৃষক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কালাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউপির বহুতিদর্গাপাড়া গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ গাছের বোটাই বোটাই বাঁশ আর প্লাস্টিকের জালের সুতায় তৈরি মাচায় ঝুলছে হলুদ রংয়ের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ। ফলন ভাল হওয়ায় বর্গা চাষি এনামুলের চোখ মুখে আনন্দের ছোঁয়া ফুটে উঠেছে। 

সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী বলা হয়। কিন্তু উষ্ণ অঞ্চল হওয়ায় এই উপজেলায় কোথাও রসালো ফল তরমুজের চাষ হয় না। এরপরও রাজশাহী বিভাগে বরেন্দ্রভূমি হিসেবে খ্যাত জয়পুরহাটের কালাইয়ে এই প্রথম বিদেশি তরমুজ চাষ করে সফল এনামুল হক। 
তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে গত জুন মাসের ২৪ তারিখে তার জমিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজের বীজ রোপণ করেন।  

বিষ ও ফরমালিন মুক্ত গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সুস্বাদু ফল। সাধারণত তরমুজ মাটিতে হলেও এটি মাচায় বড় হয়। সাধারণত উঁচু জমি এবং দোআঁশ মাটি এই তরমুজ চাষের জন্য উপযুক্ত। 

গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষি এনামুল হক বলেন, নিজস্ব উদ্দ্যোগে ৩৩ শতক বন্যামুক্ত ও উচু জমি বর্গা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে ২২টি বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখি। এরপর জুনে ২৪ তারিখে ১৮ ইঞ্চি পর পর বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজের বীজ রোপণ করি। বীজ রোপণের ৩৫ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৪০ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তারপর ৭৫ দিনে পরিপক্ক হয়ে মাচায় ঝুলছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের প্রায় ২৪শ’ তরমুজ। এ তরমুজ কাটলে ভিতরে লাল টুকটুকে, রসালো আর খেতে মিষ্টি ও খুব সুস্বাদু। আশা করছি এই মাসেই সব তরমুজ বিক্রি হবে। বর্তমান বাজারে এই তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি, দামও ভালো আছে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১শ টাকায় বিক্রি হবে। এই পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার আয় হবে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। 

তিনি আরো বলেন, তেমন কোনো খরচ না হওয়ায় এবং লাভ ভালো হওয়ার কারণে স্থানীয় অনেক কৃষক প্রায়ই আমার কাছে আসছেন। এ ধরনের তরমুজ চাষের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তরমুজ চাষ দেখতে আসা স্থানীয় কৃষক নুরুল মিয়া ও আব্দুল খারেক জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। কিন্তু এনামুল এখানে নতুন জাতের হলুদ বর্ণের তরমুজ চাষ করে বেশ সফল হয়েছেন। তরমুজ চাষের ফলন ভালো ও স্বাদ ভালো হাওয়ায় এখন অনেকেই চাষ করতে তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। এনামুলের মতো তারাও এখন ভাবছেন, ঐ জাতের তরমুজের চাষ করবেন। এই জাতের তরমুজের যে চাহিদা বাজারে দেখছি তাতে করে এই জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে। তার তরমুজ দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এক নজর দেখতে আসেন। 

উপজেলার উদয়পুর ইউপির দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জেবা বলেন, এই উপজেলার কৃষকেরা ধান ও আলুর চাষ করতে বেশি অগ্রহী। ধান ও আলুর চাষাবাদ ছাড়াও অনেক ধরনের ফল চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া যায় সেই চেষ্টাই আমরা এলাকায় একটি আধুনিক তরমুজ চাষ সৃষ্টি করেছি। সেই তরমুজ চাষ করে বর্তমান আমরা সফল হয়েছি। সেই সঙ্গে ঐ তরমুজ নিয়ে এলাকার সব কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাছাড়া এলাকাতে পুষ্টি চাহিদা পূরনের পাশাপাশি এনামুল হক অর্থনৈতিকভাবে অনেক স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। আমরা এই জাতের তরমুজ চাষ কালাই উপজেলায় সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!