ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বোনের হত্যাকারী গ্রেফতার হওয়ায় ভাইকে হত্যাচেষ্টা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৪০, ৯ জুন ২০২০
বোনের হত্যাকারী গ্রেফতার হওয়ায় ভাইকে হত্যাচেষ্টা
শিশু মারজানার হত্যাকারী সেলিম (বামে), ভাই মারুফ (ডানে)

চাঁদপুরে আলোচিত তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মারজানা হত্যার আসামি সেলিম ব্যাপারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারজানার ভাই মারুফকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সেলিমের পরিবার।

রোববার রাতে হাইমচর উপজেলার ইশানবালা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আলোচিত এ মামলার তৃতীয় আসামি সেলিম ব্যাপারীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

এ ঘটনায় চাঁদপুর ডিবি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহত মারজানার বাবা মোকশেদ হাওলাদার।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর মারজানাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে একদল বখাটে। এরপর লাশ ফেলে রাখে বিলের পাড়ে। প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় মারজানাকে ‘জ্বিনে মেরেছে’ এমন খবর প্রচার করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। ঘটনার ১৮ দিন পর আদালতে মামলা করেন মারজানার বাবা। পরে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। এতে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়।

চাঁদপুরের এসপি মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়ার পর শুরু হয় আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া। অধিকতর তদন্তের জন্য এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক মাসের মাথায় নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নান্নু চৌকিদারকে আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন নান্নু চৌকিদার। তার দেয়া তথ্যে ৭ জুন সেলিম ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়।

মারজানার বাবা মোকশেদ হাওলাদার জানান, রোববার রাতে এশার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় মারজানার ভাই মারুফকে ধরে নিয়ে মারধর করে সেলিম ব্যাপারীর বাবা শফিউল্লাহ, বড় ভাই জলিলসহ কয়েকজন। মারুফ কোনোরকমে তাদের হাত থেকে পালায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক এডিশনাল এসপি মো. মিজানুর রহমান ও ডিবি পুলিশের এসআই রেজাউল করিমকে জানানো হয়। এরপর ইশানবালা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

মোকশেদ হাওলাদার বলেন, মেয়ের হত্যাকারীদের ভয়ে এক বছর আগেই ছেলেকে দূরের একটি গ্রামে পাঠিয়েছি। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে মারুফ। করোনা পরিস্থিতির কারণে সে বাড়ি এসেছে। আমাদের ভয় হয়, মেয়ের মতো আমার ছেলেকেও ওরা মেরে ফেলতে পারে।

মারজানার ভাই জানায়, সেলিমের বাবা তার গলা টিপে ধরে বলছিলেন ‘তোর বইনের খুনের মামলায় আমাগো ছেলের যদি ফাঁসি অয়, তইলে তোরেও আমরা মাইরা ফালামু।’

মারুফ বলে, আমার ছোট্ট বইনেরে ওরা খুন করছে। এহন দরকার হইলে আমারেও মাইরা ফেলুক, তবু আমার বইনের হত্যাকারী গো যেনো ফাঁসি হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!