ঢাকার যে স্থাপনায় ঢুকলেই পথ হারিয়ে ফেলতো সবাই
ভুলভুলাইয়া টাওয়ার—ঢাকার দিলকুশার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সঙ্গে অনেকেই অপরিচিত। স্থাপনাটির অবশিষ্ট কোনো অংশ বর্তমানে খুঁজে না পাওয়া গেলেও, ১৮৮০ সালে কোনো এক অজ্ঞাত ফটোগ্রাফারের একটি ছবির মাধ্যমেই ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
তৎকালীন সময়ে ভুলভুলাইয়া টাওয়ারটি ঢাকা শহরের পুরোনো স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত ছিল। টাওয়ারটি ১৮ শতকের শেষ দিকে নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়। এর নির্মাণকারীরা সম্ভবত ছিলেন নবাবী আমলের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বা ধনী জমিদাররা, যারা তাদের প্রাসাদ বা অন্য সুবিধার জন্য এই ধরনের টাওয়ার তৈরি করেছিলেন। এটি মূলত একটি টাওয়ারের মতো নির্মাণ হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
উপরের ছবিটিতে দৃশ্যমান—দিগন্ত প্রসারিত খালি জমি, তৃণ ভূমি আর ছোট খাট জঙ্গল। তখনকার দিনে এখানে হাতি, হরিণ, গন্ডার চরত। বিলাতি সাহেবেরা বন্দুক নিয়ে শিকারে যেতেন। বনভোজন করতেন। পরবর্তীতে নওয়াব খাজা আবদুল গনি ই.এফ. স্মিত নামের এক বিলাতি ভদ্রলোক থেকে জায়গাটি কিনে নেন বলে অনেকেরই মত।

টাওয়ারের নামকরণ
‘ভুলভুলাইয়া’ শব্দের অর্থ হলো ‘গোঙা বা বিভ্রান্তি’, এবং এটি এই টাওয়ারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একে ‘ভুলভুলাইয়া’ নাম দেওয়া হয়েছে হয়তো তার জটিল ডিজাইন বা এর ভিতরে চলাচল করা অনেক সিঁড়ি ও পথের কারণে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কথিত আছে যে, টাওয়ারটি একটি ধাঁধার মতো নির্মিত ছিল, যাতে যারা ভেতরে প্রবেশ করত তারা সহজেই পথ হারিয়ে ফেলতে পারতো।
টাওয়ারের স্থাপত্যশৈলী ও গুরুত্ব
ভুলভুলাইয়া টাওয়ারটি মূলত একটি একক টাওয়ারের মধ্যে বিভ্রান্তিকর সিঁড়ি ও পথের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। এটি বেশ কিছু তলা বিশিষ্ট ছিল এবং প্রতিটি তলার মধ্যে এমন ধরনের অন্দর স্থান ছিল, যা একে একে পরবর্তী তলায় নিয়ে যেতে সাহায্য করত।
ভুলভুলাইয়া টাওয়ারের মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছে। এটি ঢাকার পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম উদাহরণ। নবাবি আমলে ঢাকা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, এবং সে সময় অনেক ধনী জমিদার ও সরকারি কর্মকর্তারা এমন ধরনের ভবন তৈরি করতেন। যদিও টাওয়ারটির সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য কম, তবে এটি ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।